মাদ্রাসা বন্ধ থাকার পরও অভিনব পদ্ধতিতে কালেকশনের অভিযোগ পরিচালকের বিরুদ্ধে

১২ নভেম্বর ২০২৫, ০১:২৭ PM
অভিনব পদ্ধতিতে কালেকশনের অভিযোগ মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে

অভিনব পদ্ধতিতে কালেকশনের অভিযোগ মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে © সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ মুফতি আমিনী (রহ.) শহিদী মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে বিভিন্ন এলাকায় অভিনব কৌশলে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে । ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটি গত এক বছর ধরে শিক্ষার্থীহীন ও তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো এই মাদ্রাসার নামে কালেকশন অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাদ্রাসার সাবেক সহকারী পরিচালক ক্বারী জাকারিয়া আল হামীদি বলেন, মাদ্রাসা বন্ধ হওয়ার পরও পরিচালক হাফেজ ইদ্রিস মুহাম্মাদ খাঁন বিভিন্ন স্থানে এর নামে কালেকশন করছেন। একাধিকবার কালেকশন করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে মারধরের শিকারও হয়েছেন তিনি। সতর্ক করার পরও তিনি একই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

কালেকশনের ধরন সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, তার নিজস্ব একটা টিম থাকে, যারা প্রতিদিন একেকটা গ্রামকে টার্গেট করে সেখনে যায়। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলে ‘আমাদের মাদ্রাসায় কুরআন শরীফ লাগবে’, ‘ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছে’, বা ‘এতিমখানায় ছাত্ররা কষ্টে আছে’ এসব বলে সহযোগিতা নেয়।

তিনি দাবি করেন, পরিচালকের প্রধান আর্থিক উৎসই এই কালেকশন। তার কোনো ব্যবসা বা আয়ের অন্য উৎস নেই। যা দিয়ে তার পরিবার সহ আরও অনেক কিছুই চলে।

নবীনগরের কাজলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা ইউসুফ বলেন, ‘আমি নিজে ও আরো অনেক শিক্ষক দেখেছি, তিনি ৪/৫ জনের দল নিয়ে কালেকশন করতেন। এ নিয়ে আমরা তাকে একাধিকবার ধমক দিয়েছি। এমনকি আমার বাড়িতেও এসে বলেছেন, ‘আমাদের এতিমখানায় বোর্ডিংয়ের চাল–ডাল লাগে’।

মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম বলেন, সে কয়েকজনকে নিয়ে আমার মহল্লায় আসে এবং বলে— ‘কালিকচ্ছ মুফতি আমিনী  মাদরাসার ছাদ ঢালাই চলছে, কয়েক বস্তা সিমেন্ট লাগবে’ অথবা ‘১০০ ছেলে কুরআন শরীফ নিবে’। আপনারা টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন। পরে স্থানীয় যুবকরা তাকে ধরে মসজিদে এনে মারধর করে ও ভবিষ্যতে কালেকশন না করার মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।

প্রতিবেশী গ্রামের মাওলানা ইদ্রিস আদনান বলেন, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার আড়াই বছর ভালোই চলছিল। কিন্তু শিক্ষকদের সঙ্গে পরিচালকের অসদাচরণ, বেতন বকেয়া, শিক্ষকদেরকে রীতিমতো কালেকশনের চাপ দেওয়া, এমনকি শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলা ইত্যাদি কারণে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ ইদ্রিস মুহাম্মাদ খাঁন বলেন, আমাদের মাদ্রাসায় কোনো অবৈধ কালেকশন করা হয় না। সংস্কারমূলক কিছু কাজ চলমান থাকায় মুহাব্বতের লোকজন স্বেচ্ছায় বিভিন্ন সময় সামান্য সহায়তা করে থাকেন। অথচ একদল কুচক্রী মহল এসব বিষয়কে বিকৃত করে আমার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ছাত্রদলের সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাজধানীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষ…
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
লিটনের সঙ্গে কথোপকথনের পর নতুন স্বপ্ন বুনছেন সাকলাইন
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
এক কেন্দ্রের কেন্দ্রসচিবসহ ১১ শিক্ষককে এসএসসির দায়িত্ব থেকে…
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
শাস্তির আওতায় আসছেন প্রায় ৩০০ প্রতিষ্ঠান প্রধান
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা স্থগিতের বিষয়টি সমাধান সম্ভব: আসি…
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
ইসিতে এনডিপির নিবন্ধন পেতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলাচিঠি এনড…
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬