বাকৃবি

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে কম্বাইন্ড ডিগ্রি অপরিহার্য: ভেটেনারি অনুষদ ডিন

২৮ আগস্ট ২০২৫, ১১:৪৮ PM , আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৪২ PM
প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ে ভেটেরিনারি অনুষদের সংবাদ সম্মেলনে

প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ে ভেটেরিনারি অনুষদের সংবাদ সম্মেলনে © টিডিসি

ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেছেন, দেশের প্রেক্ষাপটে প্রাণিসম্পদের উন্নয়নের জন্য কম্বাইন্ড ডিগ্রি (বিএসসি ইন ভেট সায়েন্স এন্ড এএইচ) অপরিহার্য। আমরা শিক্ষক হিসেবে চাই, শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এবং দেশের স্বার্থে কল্যাণকর সেই ডিগ্রি হোক। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। 

ড. বাহানুর রহমান বলেন, প্রাণিসম্পদ সেক্টরের সাথে সম্পর্কিত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কম্বাইন্ড ডিগ্রির বিষয়ে স্পষ্ট চাহিদা রয়েছে। আমরা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো মতামত দিইনি, ব্যক্তিগত স্বার্থেও নয়। এতে করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ও আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা এগিয়ে যেতে পারবে। 

তিনি আরও বলেন, এই ডিগ্রি মূলত ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতের জন্য। বর্তমানে অধিকাংশ শিক্ষার্থী কম্বাইন্ড ডিগ্রির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে দুই অনুষদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সবকিছু বিবেচনা করেই আমরা কম্বাইন্ড ডিগ্রির পক্ষে মতামত দিয়েছি। বর্তমান বাস্তবতায় একজন ভেটেরিনারি সায়েন্স গ্র্যাজুয়েটের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস দেওয়ার সক্ষমতা থাকা জরুরি। সরকারি চাকরিতে প্রবেশ বা ডিএলএস (ডিপার্টমেন্ট অব লাইভস্টক)-এ যোগ দিতে হলে এই ডিগ্রি আবশ্যক। তাই বাকৃবিতে যদি কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালু হয়, তবে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও তা অনুসরণ করবে। 

কম্বাইন্ড ডিগ্রি হলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা যারা ডিভিএম (ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন) ডিগ্রির জন্য ভর্তি হয়েছে তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর ভেটেরিনারিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯৮ শতাংশ দেশীয় এবং ২ শতাংশ বিদেশি। এত বিপুল সংখ্যক দেশীয় গ্রাজুয়েটের চাকরির বাজার নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথম দায়িত্ব। শুধুমাত্র বিদেশি শিক্ষার্থীদের উপর অনুষদ টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। নেপালের শিক্ষার্থীদের তাদের দেশের নিবন্ধন পেতে কোনো সমস্যা নেই। মালয়েশিয়ান শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তাদের দেশীয় নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য যাচাই চলছে। এ বিষয়ে মাননীয় ভিসির সাথে আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই একটি টিম মালয়েশিয়া গিয়ে তাদের ভেটেরিনারি কাউন্সিলের সাথে বৈঠক করবে। বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের জন্য বাকৃবিতে ইতোমধ্যে একটি আন্তর্জাতিক সেল গঠন করা হয়েছে, যা তাদের সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ডিন ও প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মকবুল হোসেন বলেন, ১৯৬৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ভেটেরিনারি শিক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। সে সময় বিএসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিমেল হাজবেন্ডারি ডিগ্রিকে ভেঙে আলাদা করে ডিভিএম (ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন) এবং বিএসসি ইন অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি করা হয়। মূলত এটি ছিল একটি পাঁচ বছরের প্রকল্প, যা পর্যালোচনা করার কথা ছিল। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে একই প্রক্রিয়া চালু হলেও পর্যালোচনার পর তারা আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে তা আর সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ১৯৮০-এর দশক থেকে সরকার বিষয়টি উপলব্ধি করে একাধিক কমিটি গঠন করে— এনাম কমিটি, শামসুল হক বারি কমিটি ও এরশাদুল হক কমিটি। এসব কমিটি বারবারই একটি ইন্টিগ্রেটেড বা কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর সুপারিশ করেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিষয়টি বাস্তবায়ন হয়নি। সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো এ বিষয়ে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল থেকেও প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়া যায়নি। 

আরও পড়ুন: প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বেরোবি উপাচার্যের নিন্দা

মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব আলম বলেন, ১৯৬১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত যেসব অ্যানিম্যাল হাজবেন্ড্রি গ্র্যাজুয়েট মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন, তাদের পক্ষ থেকেই কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবি উঠেছে। যদি শুধু ভেটেরিনারিরা এই দাবি তুলতেন, তাহলে একপক্ষের দাবি বলা যেত। মাঠের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে গ্র্যাজুয়েটরা শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো জানাচ্ছেন, আর শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারছেন কম্বাইন্ড ডিগ্রির যৌক্তিকতা ও গুরুত্ব। তাই তারা আন্দোলন করছে। আসলে দেশের জন্য এই ডিগ্রির প্রয়োজনীয়তা এখন আর অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, আমরা এমন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে চাই যারা উচ্চতর পর্যায়ে নিজেদের বিকশিত করতে পারবে। এজন্য আমাদের বন্ধুপ্রতিম অনুষদগুলোকে অনুরোধ করব, দেশের ও শিক্ষার্থীদের প্রেক্ষাপটে একটি সুন্দর সিদ্ধান্ত নিতে। যাতে আমরা দেশের লাইফস্টাইলকে উন্নতির পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারি এবং বিদেশেও আমাদের লাইভস্টক পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হই।

ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, কোনো দেশের কাউন্সিল কোনো ডিগ্রিকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার সময় নাম নয়, বরং পাঠ্যক্রমের সময় ও বিষয়বস্তু বিবেচনা করে। বর্তমানে আমাদের ডিভিএম ডিগ্রিতে কিছু ঘাটতি রয়েছে। এছাড়াও আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি ফার্ম বা পোল্ট্রি ফার্মে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে তারা পূর্ণাঙ্গ ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে ফিল্ডে প্রতিষ্ঠিত হতে পারছে না। এ কারণে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলও ভবিষ্যতে এ ডিগ্রিকে স্বীকৃতি নাও দিতে পারে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর পর দেশের প্রাণিসম্পদের উন্নতি হয়েছে বলে তারা বক্তৃতা দেন। তাহলে বাকৃবিতে চালু হলে কেন প্রাণিসম্পদের ক্ষতি হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর লক্ষ্যে গত ২৭ জুলাই থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরা। ৩০ জুলাই থেকে একটানা তালাবদ্ধ রয়েছে অনুষদটি। অন্যদিকে একই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা। গত ২৫ আগস্ট থেকে অনুষদে তালা ঝুলিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন তারা। 

সিপাহী নিয়োগ দেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, আবেদন শেষ ২ এপ্রিল
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ে নিয়োগ দেবে বেলমন্ট গ্রুপ, কর্মস্থল…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
জবিতে শিক্ষক-কর্মচারী হেনস্থার ঘটনায় জকসুর নিন্দা
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন বরগুনার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ডিপ্রেশন: বিদেশে উচ্চশিক্ষার ফাঁকে ছুটিতে এসে ঢামেকের সাবেক…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
যশোর শহরে নিবন্ধিত রিক্সা-ইজিবাইক ৪৫শ’, চলছে ২০ হাজার: অসহন…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence