শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নয়, সংকটই বড় বাধা— ফ্রিল্যান্সিং দক্ষতা কাজে লাগাতে জয়ের প্রয়োজন ল্যাপটপ-স্মার্টফোন

২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ PM , আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ PM
ফ্রিল্যান্সিং দক্ষতা কাজে লাগাতে জয়ের প্রয়োজন ল্যাপটপ-স্মার্টফোন

ফ্রিল্যান্সিং দক্ষতা কাজে লাগাতে জয়ের প্রয়োজন ল্যাপটপ-স্মার্টফোন © সংগৃহীত ও টিডিসি সম্পাদিত

জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। নিজে একাকী চলাফেরা করতে পারেন না, স্পষ্টভাবে বলতে পারেন না কথাও। তবে অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে প্রযুক্তির জগতে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার রাজাপুর গ্রামের জয় হালদার (১৯)।

দরিদ্র কৃষক সুশীল হালদারের ছেলে জয় কোনোদিন বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাননি। তবুও নিজের প্রচেষ্টায় স্মার্টফোন ব্যবহার করে বাংলা-ইংরেজি লেখা, অনলাইন আবেদন, সাইবার সেবা, ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেছেন। পা দিয়েই তিনি স্মার্টফোন পরিচালনা করেন এবং এলাকার মানুষের বিভিন্ন অনলাইন সেবা দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

জয় বলেন, আমি কারও বোঝা হয়ে বাঁচতে চাই না। মা-বাবা একদিন থাকবেন না, তখন নিজের জীবন নিজেকেই চালাতে হবে। একটি ল্যাপটপ ও একটি ভালো স্মার্টফোন পেলে ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারব এবং পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারব।

তিনি জানান, এর আগে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হোয়াটসঅ্যাপে আবেদন করলেও কোনো সহায়তা পাননি। তাই তিনি প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমান ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা কামনা করেছেন।

জয়ের বাবা সুশীল হালদার বলেন, প্রায় সাত বছর আগে ১২ হাজার টাকা দিয়ে ছেলেকে একটি স্মার্টফোন কিনে দিয়েছিলেন। সেই ফোন দিয়েই জয় এখন বাংলা ও ইংরেজিতে দক্ষতার সঙ্গে লিখতে পারে। এলাকার মানুষ বিকাশ-নগদ অ্যাকাউন্ট খোলা, জমির পরচা সংগ্রহ, বিধবা ও বয়স্ক ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবার অনলাইন আবেদন করতে জয়ের সহযোগিতা নেন।

মা বীভা হালদার বলেন, জয় আমাদের পরিবারের বোঝা নয়, বরং আমাদের গর্ব। প্রতিদিন অনেকেই ওর কাছে কাজ শিখতে ও বিভিন্ন অনলাইন সেবা নিতে আসে। তবে ওকে বাথরুমে নিতে খুব কষ্ট হয়। ঘরের সঙ্গে একটি বাথরুম নির্মাণ করে দিতে পারলে আমাদের অনেক উপকার হতো।

রাজাপুর গ্রামের লেখক ও নাট্যকার আকাশ রঞ্জন বলেন, জয় হালদার আমাদের গ্রামের গর্ব। তার অসাধারণ মেধা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা যথাযথভাবে বিকশিত করার সুযোগ করে দেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, জয়ের আবেদন আমি পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাকে একটি ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন দেওয়ার চেষ্টা করব। শারীরিক সীমাবদ্ধতা জয়কে থামাতে পারেনি। সুযোগ ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে জয় হালদার শুধু নিজের জীবনই বদলাবেন না, সমাজের জন্যও হতে পারেন এক অনুপ্রেরণার নাম।

যে পাঁচ কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবি হলো ট্রাম্পের
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
এইচএসসির ফলাফলে ধস, শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে মাইকিং
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
দুই যুগেও মেলেনি এমপিও, ঋণের চাপে সর্বস্বান্ত হয়ে প্রাণ গেল…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
হামের টিকা নিয়ে তদন্ত করছে সরকার
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
জায়গা দখল করে ছাত্রদল নেতার অবৈধ দোকান, নিউজ করায় সাংবাদিকে…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950