৭ বছর পর আবারো উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং

০৫ জুন ২০২৬, ০৮:১৯ PM , আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:২০ PM
কিম জং উনের আমন্ত্রণে উত্তর কোরিয়ায় যাচ্ছেন শি জিংপিং

কিম জং উনের আমন্ত্রণে উত্তর কোরিয়ায় যাচ্ছেন শি জিংপিং © সংগৃহীত

২০১৯ সালে পর উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের আমন্ত্রণে আগামী ৮ জুন পিয়ংইয়ং সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি আজ শুক্রবার (৫ জুন) এই সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। করোনাকালীন স্থবিরতা কাটিয়ে বেইজিং যখন তার একমাত্র আনুষ্ঠানিক চুক্তিভিত্তিক মিত্র উত্তর কোরিয়াকে আবারও নিজের বলয়ে জোরালোভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই এই সফরের ঘোষণা এলো। 

সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার সাথে পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে বেইজিং তাদের এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও ঝালিয়ে নিতে চাইছে। উত্তর কোরিয়ার নেতার সাথে শি জিনপিংয়ের এটি গত সাত বছরের মধ্যে প্রথম পিয়ংইয়ং সফর; এর আগে ২০১৯ সালে তিনি শেষবার সেখানে গিয়েছিলেন।

এই ঐতিহাসিক সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যার ঠিক আগেই প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পৃথক দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। পুতিনের সাথে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা নিয়েও বেইজিংয়ের নজর রয়েছে। 

পুতিনের সফল কূটনীতির কারণে উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে রুশ বাহিনীকে সহায়তার জন্য সেনা ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সময় শি জিনপিং দুই দেশকে অংশীদার হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তাইওয়ান ইস্যুতে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্পও তার প্রথম মেয়াদের মতো আবারও কিম জং উনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

ভূ-রাজনৈতিকভাবে উত্তর কোরিয়া মস্কোর কাছাকাছি গেলেও, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে থাকা দেশটির জন্য বেইজিং এখনো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থনের সবচেয়ে বড় উৎস। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘ন্যাশনাল কমিটি অন নর্থ কোরিয়া’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া তার মোট বাণিজ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং রপ্তানির ৮৫ শতাংশের জন্যই এককভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীল। 

গত এপ্রিলে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই পিয়ংইয়ং সফর করে দুই দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে সমন্বয় বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছিলেন। সর্বশেষ গত বছরের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বেইজিংয়ের সামরিক প্যারেডে কিম জং উন ও পুতিনকে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন শি জিনপিং।

এই সফরে বেইজিংয়ের জন্য অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উত্তর কোরিয়ার পরমাণু সক্ষমতা বৃদ্ধি। গতকালই উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম জং উন দেশের পারমাণবিক অস্ত্রাগার ‘ঘাটতিহীনভাবে’ সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন। ‘কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশন’ এর গবেষক হং মিন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বেইজিং উত্তর কোরিয়ার এই অত্যন্ত দ্রুতগতির পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কড়া নজর রাখছে। 

তিনি উল্লেখ করেন, উত্তর কোরিয়া যদি অতিরিক্ত উসকানিমূলক আচরণ করে, তবে তা আঞ্চলিক সংঘাতের জন্ম দিতে পারে—যা চীনের নিজস্ব অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের পরিপন্থী। দক্ষিণ কোরিয়াও অতীতে আশা প্রকাশ করেছে যে উত্তর কোরিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রেখে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বেইজিং একটি গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।

সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৯
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
ঢাবির বাসে ‘দম্পতি’ পাশাপাশি বসা নিয়ে বিরোধ, শিক্ষার্থীদের …
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
মেহেরপুরে অনলাইন ক্যাসিনো চক্রের হোতা ওয়াসিম হালদার গ্রেপ্ত…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
শুধু রাবিতেই প্রজনন বিরল প্রজাতির বামুনশালিকের
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
তিতুমীরের পুরাতন বিজ্ঞান ভবন সংস্কারে নেই অগ্রগতি, ঝুঁকিপূর…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬