শায়খ আহমাদুল্লাহ © শায়খ আহমাদুল্লাহ
অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন আলোচিত ইসলামী বক্তা ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। পরবর্তীতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয় তাকে। তবে মানুষের কাছে দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতির কথা বিবেচনা করে গুরুত্বপূর্ণ দুটি দায়িত্বই গ্রহণ করেননি তিনি। সম্প্রতি সাংবাদিক আকবর হোসেনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় শায়খ আহমাদুল্লাহ নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, একজন ভদ্রলোক, যিনি একজন অ্যাডভোকেট, আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি বললেন, এ বিষয়ে তারা বসে আলোচনা করেছেন এবং সেখানে বারবার আমার নাম এসেছে। এরপর তিনি জানতে চাইলেন, আমি এ দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত কি না। আমি তখনই তাকে বলেছিলাম, না, আমি আসলে এ দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত নই।
পরে অবশ্য কিছুটা সময় নিয়ে আমরা এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করি। তখন আমি তাকে একটি বিকল্প প্রস্তাবও দিই। পরবর্তীতে যিনি ধর্ম উপদেষ্টা হয়েছেন, ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন, আমি তার নাম প্রস্তাব করি। একই সঙ্গে খালিদ সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার সিভি চেয়ে নিই। এরপর মধ্যস্থতা করে সেই সিভি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে পাঠাই। শেষ পর্যন্ত তিনি ধর্ম উপদেষ্টা হিসেবে চূড়ান্ত হন। অবশ্য এ বিষয়ে আরও অনেকের মতামতও ছিল।’
তিনি এ-ও বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে যুক্ত হলে বিতর্কের প্রশ্ন আসতে পারে, এটি সত্য। তবে বায়তুল মোকাররমের খতিব নিয়োগের সময় ধর্ম উপদেষ্টা ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন আমাকে একাধিকবার ফোন করেছিলেন। তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও আমাকে বায়তুল মোকাররমের খতিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সম্মত করার চেষ্টা করেছেন। সরকারের বাইরেও অনেকে আমাকে এ দায়িত্ব নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
আমি বিনয়ের সঙ্গে তাদের বলেছি, আমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের জায়গায় আমি স্থির থাকতে চাই। আমি একটি মসজিদ কমপ্লেক্স করেছি এবং সেখানে মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে আমি ওই মসজিদে জুমার নামাজ পড়াব। আমার সেই কমিটমেন্টের ওপর আস্থা রেখে মানুষ সেখানে ডোনেশন দিয়েছে এবং মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। আমরা সেখানে এমন একটি আদর্শ মসজিদ গড়ে তুলতে চাই, যেখান থেকে সমাজের জন্য বহুমুখী কল্যাণমূলক কাজ করা সম্ভব হবে।
এখন আমি যদি বায়তুল মোকাররমের খতিবের দায়িত্ব নিই, তাহলে ওই মসজিদে জুমার নামাজ পড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি আমি মানুষকে দিয়েছি, সেটি ভঙ্গ হয়ে যাবে। তাই বিষয়টি আমার জন্য বিতর্কে জড়ানোর কোনো প্রশ্ন ছিল না। চাইলে আমি অনায়াসেই দায়িত্বটি নিতে পারতাম, কিন্তু মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কারণে আমি সেটি গ্রহণ করিনি।’
এই দায়িত্বগুলো না নেওয়ার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একটি আদর্শ বহুমুখী মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি সাধারণ মানুষকে কথা দিয়েছিলেন যে এই মসজিদে তিনি নিজেই জুমার নামাজ পড়াবেন। তার এই প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা রেখেই সাধারণ মানুষ মসজিদ নির্মাণে মুক্তহস্তে অনুদান দিয়েছেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, দেশের ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য সরকারি পদ বা কোনো বড় প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকাটা অপরিহার্য নয়। একজন মানুষ তার নিজের অবস্থান থেকেই সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন।
ফাউন্ডেশনের কাজ সম্পর্কে বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের এখানে তিনটা মৌলিক কাজ হয়। আমরা মূলত শিক্ষায় কিছু কাজ করি, শিক্ষা নিয়ে। আর সেবা নিয়ে কিছু কাজ করি। আর আমাদের দাওয়াহ, ইসলাম প্রচারের জন্য আমরা কিছু কাজ করি। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাজ হয়ে থাকে মূলত সেবামূলক কাজে। শিক্ষায় আমাদের একটা মাদ্রাসা আছে, যেটা আমরা আধুনিক শিক্ষা এবং ইসলামিক শিক্ষার সমন্বয়ে, কম্বাইন্ড সিলেবাসে একটা মাদ্রাসা আমরা করেছি। আর আরও কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার বা শিক্ষা নিয়ে আরও কিছু কাজের পরিকল্পনা আমাদের আছে। আর এর বাইরে আমরা কর্মমুখী শিক্ষা, বা আপনার বলতে পারেন যে দক্ষতা-ভিত্তিক যে শিক্ষা, সেই শিক্ষার প্রতি আমরা খুব বেশি মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করছি। এবং এটাকে আমরা সবচেয়ে বেশি আমাদের লক্ষ্য হিসেবে আমরা স্থির করেছি যে আমরা এটা করব এবং সেজন্যই আপনি লক্ষ্য করবেন যে আমরা আসলে স্কিল ডেভেলপমেন্টের দিকে খুব বেশি মনোযোগ দিয়েছি।
তিনি বলেন, একজন মানুষকে আমি বারবার মাছ ধরে মাছ কিনে খাওয়ানোর চাইতে, তাকে আমি মাছ ধরানো শিখিয়ে দিলাম, মাছ ধরার জায়গাটা দেখিয়ে দিলাম। সে পারমানেন্টলি মাছ ধরার রাস্তা পেয়ে গেল, এবং সে সারাজীবন নিজে নিজে মাছ ধরে ধরে খেল। আমরা মনে করি যে এই মেথডটা অনেক বেশি উপকারী মানুষের জন্য। এজন্যই মূলত আমরা এদিকে এসেছি।