ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসন সংকটের মুখে কাতারের অর্থনীতি

২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৭ PM , আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৩ PM
ইরানে মার্কিন-ইজরায়েল আগ্রাসন সংকটের মুখে কাতারের অর্থনীতি

ইরানে মার্কিন-ইজরায়েল আগ্রাসন সংকটের মুখে কাতারের অর্থনীতি © সংগৃহীত

ইরানে আমেরিকা-ইজরাইলের একতরফা আগ্রাসনে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত ও স্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের অর্থনীতি সংকটের মুখে পড়েছে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, তার অনাকাঙ্ক্ষিত শিকার হতে হয়েছে নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত কাতারকে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রথম হামলার মাধ্যমে কাতারে যে আতঙ্ক শুরু হয়েছিল, তা আজ এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটের রূপ নিয়েছে।

২০২৬ সালের শুরু থেকেই উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর থেকে কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এক দীর্ঘ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে একটি চুক্তিবিহীন যুদ্ধবিরতি অবস্থায় থাকলেও, জনমনে আতঙ্ক এখনো কাটেনি। ব্যবসায়ীরা এখন বিনিয়োগের চেয়ে পরিস্থিতির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন।

আরও পড়ুন : পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে কতদূরে আছে ইরান?

আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং সরকারি সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাতারের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে গত ১৮ মার্চ ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির ১৪টি এলএনজি (LNG) ট্রেনের মধ্যে ২টি এবং ২টি জিটিএল (GTL) স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই হামলায় কাতারের মোট এলএনজি উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ১৭% ধ্বংস হয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষতি কাটিয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরতে অন্তত ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে।

যুদ্ধের মাঝেই ২২ মার্চ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সামরিক একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৭ জন আরোহীর প্রাণহানি ঘটে। এটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নাকি ইরানের হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই ঘটেছে।

হামলার প্রথম দিন মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের অংশবিশেষ বেসামরিক এলাকা আল ওয়াকরার আর্জেন্টিনা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে। 
এই বিস্ফোরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

আরও পড়ুন : ইসরায়েল-লেবাননের যুদ্ধবিরতি ৩ সপ্তাহ বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

এ ছাড়া ৮ এপ্রিল দোহার পশ্চিমে মুরাইখ এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কর্তৃক প্রতিহত করা একটি মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ এক কাতারি নাগরিকের বাড়ির ওপর পড়ে। এতে একটি শিশুসহ ৪ জন গুরুতর আহত হন।

বাণিজ্যিক স্থবিরতা

যুদ্ধের প্রথম দিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কাতারিরা মজুদ করতে শুরু করে। তিন দিন পরেই ২৪ ঘণ্টা সুপারমার্কেট খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।সুপারমার্কেটগুলো প্রতি কাস্টমারের জন্য সর্বোচ্চ ক্রয়ের পরিমাণ (কেজি ও লিটার) নির্ধারণ করে দেয়। তবুও কাতারের অভ্যন্তরীণ বাজারে আতঙ্কের কারণে মানুষ কেনাকাটা কমিয়ে দেয়। ফলে বড় কোম্পানিগুলো কর্মসংস্থান সংকটে পড়ে এবং অনেক প্রবাসী কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হন। খোলা আকাশের নিচে কাজ বন্ধ থাকায় হাজার হাজার প্রবাসী বেকার হয়ে পড়ে। 

পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময় কাপড়ের দোকান, গ্যাজেট এবং উদ (আগর-আতর) ব্যবসায় যে ভরা মৌসুম থাকার কথা ছিল, কাস্টমার শূন্যতায় তা হাহাকারে পরিণত হয়। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অনেকেই গ্রোসারি ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অন্য দেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করতে না পেরে তারা চরম বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে আকাশ ও নৌপথ বন্ধ থাকায় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন : সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দিয়ে ইরান কি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে?

অনেক প্রবাসী দেশে আটকা পড়েন। প্রথম এক মাস কাতার সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে ভিসা ও আইডির মেয়াদ বাড়ানো হলেও পরবর্তীতে তা আর বাড়ানো হয়নি। এতে করে আটকে পড়া অনেক প্রবাসী টাকার অভাবে কাতারে ফিরতে পারেননি। কারণ কাতার এয়ারওয়েজ ছাড়া অন্য কোনো ফ্লাইট চলাচল না থাকায় বাংলাদেশ থেকে আসার টিকিটের মূল্য প্রায় ১,৫০,০০০ টাকা হয়ে যায়, যা অনেকের পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিল না।

কাতারের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো তথ্যের অস্বচ্ছতা। পশ্চিমা দেশগুলোর মতো এখানে সব তথ্য উন্মুক্ত নয়। কাতারে তথ্যের অবাধ প্রবাহ অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত। সরকারের পক্ষ থেকে যেটুকু জানানো হয়, তার ওপরই জনসাধারণকে আস্থা রাখতে হয়। আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে যেটুকু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কথা জানা গেছে, তার বাইরে আর কতটুকু গোপন রয়ে গেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা প্রায় অসম্ভব।

তবে স্বস্তির খবর হলো, ২০ এপ্রিল থেকে আকাশপথ পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে পর্যটন ও হোটেল খাতকে সচল করতে এবং ফাইভ-স্টার হোটেলগুলোতে কর্মব্যস্ততা ফিরিয়ে আনতে আঞ্চলিক শান্তির কোনো বিকল্প নেই। ব্যবসায়ীরা আজ শুধু মুনাফা নয়, বরং যাতায়াত ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও পরিস্থিতির স্থায়ী স্থিতিশীলতা কামনা করছেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কাল, যা মনে রাখা জরুরি
  • ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ক্যান্সার আক্রান্ত নেতানিয়াহু, জানালেন নিজেই
  • ২৪ এপ্রিল ২০২৬
বেসরকারি স্কুল-কলেজের প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও কর্মচারীদের বদলি ক…
  • ২৪ এপ্রিল ২০২৬
সারাদেশে লোডশেডিং চলবে কতদিন—যা জানা গেল
  • ২৪ এপ্রিল ২০২৬
হাম ছড়িয়েছে ৯১ শতাংশ জেলায়, ডব্লিউএইচওর উচ্চ ঝুঁকি সতর্কতা …
  • ২৪ এপ্রিল ২০২৬
সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত: …
  • ২৪ এপ্রিল ২০২৬