সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দিয়ে ইরান কি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে?

২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০১ AM
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দিয়ে ইরান কি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে?

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দিয়ে ইরান কি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে? © সংগৃহীত

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বেশ আগে থেকেই আলোচনা কম হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দাবি করেন, যুদ্ধ অবসানের জন্য তেহরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছে, তখন আবারও এটি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

তবে সোমবার ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহ এই দাবি অস্বীকার করে বার্তা সংস্থা এপি-কে বলেন, এমন ধারণা এমন প্রস্তাব ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য‘।

দুই পক্ষ যখন সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার পথ খুঁজতে আলোচনা চালাচ্ছে, তখন এই উপাদানের ভবিষ্যৎ যে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে, তা প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আসলে কী—এবং এটি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কী?
ইউরেনিয়াম একটি প্রাকৃতিক উপাদান, যা পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের নিচের দিকে (ভূত্বক) পাওয়া যায়।

এটি মূলত দুটি আইসোটোপ দিয়ে গঠিত, ইউ-২৩৮ এবং ইউ-২৩৫।

প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামের ৯৯ শতাংশের বেশি ইউ-২৩৮, যা সহজে পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন (ধারাবাহিক বিক্রিয়া) ধরে রাখতে পারে না।

প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামের প্রায় ০.৭ শতাংশ মাত্র ইউ-২৩৫। এই আইসোটোপটি সহজে বিভাজিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে, যাকে বলা হয় নিউক্লিয়ার ফিশন।

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কী?
ইউরেনিয়াম একটি প্রাকৃতিক উপাদান, যা পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের নিচের দিকে (ভূত্বক) পাওয়া যায়। এটি মূলত দুটি আইসোটোপ দিয়ে গঠিত, ইউ-২৩৮ এবং ইউ-২৩৫।

প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামের ৯৯ শতাংশের বেশি ইউ-২৩৮, যা সহজে পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন (ধারাবাহিক বিক্রিয়া) ধরে রাখতে পারে না।

প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামের প্রায় ০.৭ শতাংশ মাত্র ইউ-২৩৫। এই আইসোটোপটি সহজে বিভাজিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে, যাকে বলা হয় নিউক্লিয়ার ফিশন।

সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সমৃদ্ধকরণের মাত্রা যত বাড়ে, ইউরেনিয়াম তত বেশি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ২০ শতাংশে পৌঁছানো একটি বড় মাইলফলক, কারণ এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পর অস্ত্রমানের উপাদান তৈরির বেশিরভাগ প্রযুক্তিগত কাজ ততদিনে সম্পন্ন হয়ে যায়।

প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করতে হাজার হাজার ধাপের আলাদা করার প্রক্রিয়া, সময় ও বিপুল শক্তি লাগে। কিন্তু ২০ শতাংশ থেকে প্রায় ৯০ শতাংশে নিতে তুলনামূলকভাবে অনেক কম ধাপ পার করা লাগে।

অর্থাৎ উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে তুলনামূলক আরও দ্রুত অস্ত্রমানের পর্যায়ে পরিণত করা যায়।

ইরানের কাছে কত ইউরেনিয়াম আছে?
বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের বিদ্যমান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের কী হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল। এই উপাদান তুলনামূলক দ্রুত ৯০ শতাংশ অস্ত্রমানের পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব।

এছাড়া ইরানের কাছে প্রায় ১,০০০ কেজি ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং ৮,৫০০ কেজি প্রায় ৩.৬ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা সাধারণত বিদ্যুৎ উৎপাদন বা চিকিৎসা গবেষণার মতো বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত হয়।

ধারণা করা হয়, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় অংশ ইসফাহানে সংরক্ষিত আছে। এটি ইরানের তিনটি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনার একটি, যেগুলো গত বছর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি বিমান হামলার লক্ষ্য ছিল।

তবে অন্যান্য স্থানে ঠিক কত পরিমাণ উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

সূত্রগুলো বলছে, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণে ২০ বছরের স্থগিত করার প্রস্তাব তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে। এর বদলে তারা সংঘাত শুরুর আগে দেওয়া পাঁচ বছরের বিরতির প্রস্তাব আবার সামনে এনেছে।

এছাড়া ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের দাবিও তারা নাকচ করেছে। বরং আগের মতোই ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামের সাথে মিলিয়ে লঘু পর্যায়ে আনার প্রস্তাবে তারা অনড় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি গত বছরের অক্টোবরে বার্তা সংস্থা এপি-কে বলেন, এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করা হলে ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

ইরান কি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে?
ইরান বেশ জোর দিয়ে দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। আইএইএ-ও বলছে, তারা কোনো সক্রিয় পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির প্রমাণ পায়নি।

তবে অস্ত্রমানের ইউরেনিয়াম তৈরি করাই শেষ ধাপ নয়। একটি কার্যকর বোমা বানাতে আরও জটিল কিছু ধাপ পার হওয়া প্রয়োজন, যেমন ওয়ারহেড ডিজাইন, সংযোজন এবং ডেলিভারি সিস্টেম তৈরি।

স্বাধীন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিসিয়া লুইস বলেন, ‘২০০৩ সাল পর্যন্ত ইরান ওয়ারহেড নকশার কিছু সক্ষমতা তৈরি করেছিল, এরপর সেই কর্মসূচি বন্ধ হয়েছে বলে মনে হয়‘।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘২০১৫ সালের চুক্তি ভেঙে পড়া এবং নতুন চুক্তির আলোচনা বারবার ব্যর্থ হওয়ার পর, ইরান আবার ওয়ারহেড তৈরির সক্ষমতা বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে।‘

২০২৫ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির এক মূল্যায়নে বলা হয়, ইরান ‘সম্ভবত এক সপ্তাহেরও কম সময়ে‘ একটি ডিভাইসের জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্রমানের ইউরেনিয়াম উৎপাদন করতে পারে।

তবে একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ‘প্রায় নিশ্চিতভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না,‘ যদিও তারা এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যা চাইলে তাদের সেই সক্ষমতার কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে।

ইসরায়েল বলেছে, তাদের কাছে এমন গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের উপাদান তৈরিতে ‘সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি‘ করেছে। [সূত্র: বিবিসি বাংলা]

শূন্য আসনে চুয়েটে পঞ্চম ধাপের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
  • ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি, আবেদন শেষ ৩০ এপ্রিল
  • ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সদস্য আহতের ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ প্রকাশ না…
  • ২৪ এপ্রিল ২০২৬
শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে চলমান পরীক্ষা নেবার ঘোষণা আন্দোলনরত…
  • ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার নিয়োগ দেবে প্রাণ গ্রুপ, আবেদন অ…
  • ২৪ এপ্রিল ২০২৬
থানার ভেতরে ঢুকে ডাকসু নেতাদের ওপর ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হাম…
  • ২৪ এপ্রিল ২০২৬