মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন © সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের প্রেস অফিসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে ফেরার পর গণমাধ্যমের ওপর পেন্টাগনের কড়াকড়ি আরোপের সর্বশেষ পদক্ষেপ এটি। সোমবার (১ জুন) পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেস এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর আল জাজিরার
জোয়েল ভালদেস জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নির্ধারকদের বক্তব্য লেখকেরা (স্পীচরাইটার) ওই অফিসটি ব্যবহার করছেন, যাদের কাছে সরকারের অত্যন্ত গোপনীয় ও সংবেদনশীল তথ্য থাকে। আর এ কারণেই কার্যালয়টিকে ‘সেনসিটিভ কম্পার্টমেন্টেড ইনফরমেশন ফ্যাসিলিটি’ হিসেবে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই লেখকেরা নিয়মিত গোপন নথি নিয়ে কাজ করেন এবং তাদের পেন্টাগনের সুরক্ষিত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ‘সিপারনেট’ (SIPRNet) ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। ফলে এখন থেকে সাংবাদিকরা আর ওই অফিস কক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে পাবলিক অ্যাফেয়ার্স এবং প্রেস সেক্রেটারির অফিসে পূর্ব অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে প্রবেশ করা যাবে।
ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক মার্কিন গণমাধ্যমের ওপর সামরিক ও সরকারি অন্যান্য বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরির সুযোগ সংকুচিত করার ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এর আগে গত মার্চ মাসে প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছিল, সাংবাদিকরা আর পেন্টাগনে স্থায়ী অফিস রাখতে পারবেন না। এছাড়া মে মাসে পেন্টাগনের ভেতরে সাংবাদিকদের চলাচলের জন্য সরকারি এসকর্ট বা নিরাপত্তারক্ষী বাধ্যতামূলক করার আরেকটি নিয়ম চালু করা হয়, যা বাতিলের দাবিতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস আদালতে পৃথক মামলাও করেছে।
পেন্টাগনের এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকদের মূল পেশাজীবী সংগঠন ‘ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব’। সংগঠনের সভাপতি মার্ক শোফ জুনিয়র এক বিবৃতিতে বলেন, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় ট্রাম্প প্রশাসনের একটি উদ্বেগজনক হস্তক্ষেপ। সাংবাদিকদের যখন মূল প্রতিষ্ঠান থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হয়, তখন সাধারণ মানুষ সঠিক তথ্য ও স্বচ্ছতা থেকে বঞ্চিত হয়।
অন্যদিকে, অলাভজনক মানবাধিকার সংস্থা 'ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন'-এর অ্যাডভোকেসি প্রধান সেথ স্টার্ন এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, পেন্টাগনের প্রেস অফিস থেকে আজকাল মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই বের হয় না, তাই এই জায়গাকে তারা কোন ভিত্তিতে ‘গোপন’ বলছে তা বোঝা দায়।