কমিটি হয় না বছরের পর বছর—ঢাকার ত্রিশের বেশি সরকারি-বেসরকারি মেডিকেলে ছন্নছাড়া ছাত্রদল

২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৬ PM , আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৮ PM
ছাত্রদল

ছাত্রদল © টিডিসি

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রভাব থাকলেও রাজধানী ঢাকার ৪ ও সারাদেশের বেসরকারি ৭৮টি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ছন্নছাড়া অবস্থা নেতাকর্মীদের। ৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে গত এপ্রিলে সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টালগুলোর ১ বছরের জন্য গঠিত ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। আর বিলুপ্ত না হওয়ায় চলতি ১৮ জুলাই ৮ বছর পূর্ণ করেছে ৭৮টি মেডিকেল ও ডেন্টাল নিয়ে গঠিত ‘বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদল’ কেন্দ্রীয় কমিটি। এসব বেসরকারি মেডিকেলের প্রায় ৩০টিই ঢাকায় অবস্থিত।

অর্ধযুগের বেশি সময় পেরিয়ে প্রায় ১ দশকের ঘরে পৌঁছাতে যাওয়া এসব ইউনিটের কমিটি পুনর্গঠন না হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। এতে দীর্ঘদিন ছাত্রদলের রাজনীতি আঁকড়ে থাকা নেতাকর্মীরা যেমন পরিচয়হীনতায় পড়েছেন, তেমনি থমকে গেছে নতুন কর্মী সংগ্রহ। সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর নেতাকর্মীরা বলছেন, এর ফলে ছাত্রনেতৃত্বের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী চিকিৎসকদের নেতৃত্ব গঠনের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষও ছড়িয়ে পড়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই গোলাম মোর্শেদ সজীবকে সভাপতি এবং সাইফুল ইসলাম বাদশাকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, তাওহীদুল ইসলাম সৈকতকে সভাপতি ও ইমরান হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ এবং মাজহারুল ইসলাম জাহিদকে সভাপতি ও মো. নকিবুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা ডেন্টাল কলেজের কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২৪ জুলাই মেহেদি হাসান সাকিবকে আহ্বায়ক ও সাদ বিন নেওয়াজকে সদস্যসচিব করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়। গত ১১ এপ্রিল ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ এসব কমিটি বিলুপ্ত করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।

এদিকে ৭৮টি বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ নিয়ে গঠিত ‘বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলে’র কমিটিও গঠন করা হয় ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই, যা চলতি মাসে ৮ বছর পূর্ণ করেছে। ওই সময় রাকিবুল ইসলাম আকাশকে সভাপতি ও লাবিদ রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে এই ইউনিটের কমিটি গঠন করা হয়। তবে ২০২২ সালে লাবিদ রহমান স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হলে ডা. তানজিম রুবাইয়াৎ আফিফকে এই কমিটির সাধারণ সম্পাদকের ভার দেয়া হয়। এমনকি এই শাখার অন্তর্বর্তী অনেকগুলো ইউনিটের কমিটি হলেও এখানে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসেনি।

কমিটি হলে নতুন নেতৃত্বও উঠে আসবে। একই সাথে ইউনিটের কার্যকারিতাও বাড়বে। অবশ্য রাকিব-নাছির ভাই আমাদের জানিয়েছেন দ্রুত কমিটি গঠন করা হবে। আমরাও মনে করি দ্রুত কমিটি হওয়া দরকার। প্রায় ৮০টা মেডিকেল কলেজ, নতুন কমিটি হলে এতগুলো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বাড়ানোর নতুন সুযোগ পাওয়া যাবে— ডা. মমি আনসারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদল

এদিকে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের কমিটি অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ঢাকার অপেক্ষাকৃত নতুন মুগদা মেডিকেল কলেজেও কমিটি রয়েছে সংগঠনটির। গত বছরের ১৪ জুন মেহেদী হাসান নিলয়কে আহ্বায়ক ও শাকিল আহমেদকে সদস্যসচিব করে এই শাখার কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়।

ঢাকার অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের সকল আন্দোলনে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল অবিস্মরণীয়। অথচ প্রায় ৩ মাসের অধিক সময় ধরে ৪টি মেডিকেল কলেজে ছাত্রদলের কোনো সাংগঠনিক কাঠামো নেই। এমনকি দেশের যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে সর্বোচ্চ অবদান রাখা ঢাকা মেডিকেল কলেজের কমিটি না থাকাতে হতাশ হয়ে পড়ছেন নেতাকর্মীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী এক নেতা বলেন, ঢাকার বাইরের নতুন অনেক মেডিকেল কলেজে কমিটি গঠন হয়েছে। ঢাকারও অপেক্ষাকৃত নতুন মুগদা মেডিকেলেও কমিটি গঠন হয়েছে। অথচ রাজধানীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর একটি ঢাকা মেডিকেল, যেখানে নিয়মিত কমিটি নেই। এতে এই ইউনিটটি বেশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।

বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় ইউনিট ছিল বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদল। সেই ইউনিট নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের আগ্রহ নেই দেখে আমরা খুব হতাশ হয়েছি। নিয়মিত কমিটি না হওয়ার কারণে নতুনরা রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী হচ্ছে না। অন্তত বিগত দিনে যারা কাজ করছে তাদের মূল্যায়নটা মনে হয় খুব বেশি জরুরি— নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের একজন নেতা

এই ইউনিটের আরেক নেতা বলেন, ঢাকা মেডিকেলের যে ছেলেটা ২০১৬ সালে ভর্তি হয়ে ছাত্রদলে যুক্ত হয়েছে, সে কিন্তু এখনও পরিচয়হীন। ২০১৮ সালে কমিটি হওয়ার পরে পাঁচজনের কমিটির মধ্যে এখন তিনজনের বিয়ে, বিসিএসও হয়ে গেছে। অথচ মেডিকেল সেক্টর কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ, প্রতিনিয়তই দরকার হয়। আউট অব পলিটিক্স, এর বাইরেও কিন্তু মেডিকেল সেক্টরে বেশি এঙ্গেজমেন্টের দরকার, যা অন্য কোনো সেক্টরের দরকার হয় না।

৮ বছর ধরে একই কমিটি থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমি আনসারী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, নতুন কমিটি হলে আমাদের জন্য ভালো। প্রার্থীরা সব সময় চায় কমিটি হোক। এতে নতুন নেতৃত্বও উঠে আসবে। একই সাথে ইউনিটের কার্যকারিতাও বাড়বে। অবশ্য রাকিব-নাছির ভাই আমাদের জানিয়েছেন দ্রুত কমিটি গঠন করা হবে। আমরাও মনে করি দ্রুত কমিটি হওয়া দরকার। প্রায় ৮০টা মেডিকেল কলেজ, নতুন কমিটি হলে এতগুলো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বাড়ানোর নতুন সুযোগ পাওয়া যাবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের সুপার ফাইভের একজন নেতা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ৫ আগস্টের পর আমাদের অন্তর্বর্তী অনেকগুলো মেডিকেল কলেজের কমিটি হলেও অদৃশ্য কারণে আমাদের কমিটিটা হচ্ছে না। এতে নেতৃত্ব শূন্যতায় ভুগছে সংগঠনটি। সম্প্রতি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ৩৬ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে।

কমিটি গঠন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আমরা ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিটগুলোর কমিটি গঠনের চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংসদ অত্যন্ত আন্তরিক— ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, সহ-সভাপতি, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ

তিনি বলেন, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় ইউনিট ছিল বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদল। সেই ইউনিট নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের আগ্রহ নেই দেখে আমরা খুব হতাশ হয়েছি। নিয়মিত কমিটি না হওয়ার কারণে নতুনরা রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী হচ্ছে না। অন্তত বিগত দিনে যারা কাজ করছে তাদের মূল্যায়নটা মনে হয় খুব বেশি জরুরি।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল কলেজ ইউনিটের কমিটি না থাকার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্বাস্থ্য ও সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।

এ বিষয়ে জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তারা সাড়া দেননি।

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে উঠে আসা সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, কমিটি গঠন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আমরা ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিটগুলোর কমিটি গঠনের চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংসদ অত্যন্ত আন্তরিক।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে ত্যাগী, মেধাবী ও অতীতে নির্যাতিতরা যেন নেতৃত্বে আসতে পারে সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হয়। আমরা চেষ্টা করব আগের যারা ছিল, এর মধ্যে ত্যাগী যারা— এবং নতুনরাও যেন সুযোগ পায়।

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন রাবি অধ্যাপক খালেদ …
  • ২৭ জুলাই ২০২৬
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপ-উপাচার্য হলেন শেকৃবি…
  • ২৭ জুলাই ২০২৬
পটুয়াখালী মেডিকেলের অধ্যক্ষ ডা. জিয়াউল করিম
  • ২৭ জুলাই ২০২৬
ককরোচ আন্দোলনে চালানো হয়েছিল একে-৪৭
  • ২৭ জুলাই ২০২৬
প্রেমিকাকে ধর্ষেণের পর হত্যা, ফটোগ্রাফার নামিমসহ ৩ জনের বির…
  • ২৭ জুলাই ২০২৬
কল সেন্টারে এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে ট্রান্সকম গ্রুপ, আবেদন ৩…
  • ২৭ জুলাই ২০২৬