চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন © সংগৃহীত
ইরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে চীনের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের যে হুমকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তার কড়া জবাব দিয়েছে বেইজিং। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ভিত্তিহীন অজুহাতে শুল্ক বৃদ্ধির পথে হাঁটে, তবে চীনও তার ‘দৃঢ় পাল্টা ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুঁশিয়ারি দেন যে, কোনো দেশ যদি ইরানকে সামরিক সহায়তা দেয়, তবে সেই দেশের পণ্যের ওপর অবিলম্বে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। বিশেষ করে বেইজিংকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ‘যদি আমরা তাদের এমন কিছু করতে চাই, তবে তাদের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে, যা একটি স্তম্ভিত করার মতো অংক।’
সাম্প্রতিক কিছু মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সিএনএ এবং নিউইয়র্ক টাইমস দাবি করেছিল যে, চীন ইরানকে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এই প্রতিবেদনগুলোকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ এবং ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, চীন সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির ক্ষেত্রে নিজস্ব কঠোর আইন ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলে এবং মার্কিন প্রতিবেদনগুলো ভিত্তিহীন প্রচারণার অংশ মাত্র।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি যদি বাস্তবে কার্যকর হয়, তবে তা বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করবে। চীন ইরানের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক অংশীদার এবং তাদের জ্বালানি তেলের প্রধান ক্রেতা।
এদিকে বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আগামী মাসে ট্রাম্পের চীন সফর এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, তারা কোনো ধরনের ‘জবরদস্তি’র কাছে নতি স্বীকার করবে না। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে সামরিক উসকানি নয়, বরং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খোঁজা উচিত জিংপিংয়ের দেশ।