চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন © সংগৃহীত
ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ আরোপের কড়া সমালোচনা করে একে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছে চীন।
গত সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া এই অবরোধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা শান্তি আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই ভেঙে যাওয়ার ঠিক একদিন পর ওয়াশিংটন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই অবরোধ কেবল ‘উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং আগে থেকেই ভঙ্গুর অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’ তিনি মার্কিন এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে একে ‘এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ধরণের একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য শুভ নয়।
বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা জেমস ল্যান্ডেল এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, চীনের এই কড়া প্রতিক্রিয়ার পেছনে গভীর অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। চীন তাদের প্রয়োজনীয় তেলের একটি বড় অংশ ইরান থেকে আমদানি করে থাকে। ফলে এই সংঘাতের প্রভাবে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ল্যান্ডেলের মতে, ‘এই যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে চীনের নিজস্ব স্বার্থ জড়িয়ে আছে।’ চীনের এই অবস্থান মূলত বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষারই বহিঃপ্রকাশ।