ইরান পাকিস্তান করিডোর © সংগৃহীত
ইরানের মাধ্যমে নতুন ট্রানজিট করিডোর চালু করে আঞ্চলিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে পাকিস্তান। এই রুট ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো উজবেকিস্তানে রপ্তানি পণ্য পাঠিয়েছে দেশটি। এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর আরব নিউজ।
শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রথম চালানে হিমায়িত গরুর মাংস পাঠানো হয়েছে উজবেকিস্তানে। পণ্যবাহী ট্রাকগুলো করাচি থেকে যাত্রা শুরু করে পাকিস্তান-ইরান সীমান্তের গাব্দ-রিমদান পয়েন্ট অতিক্রম করে ইরান হয়ে সরাসরি উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দ-এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের ভেতর দিয়ে প্রচলিত স্থলপথ ব্যবহার করে পাকিস্তান মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে আসছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আফগানিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথগুলো বারবার বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাণিজ্য কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বিকল্প হিসেবে ইরান হয়ে এই নতুন রুট বেছে নেয় ইসলামাবাদ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, "ইরান করিডোরটি চালু হওয়ার ফলে ইরানের পাশাপাশি মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর জন্য করাচি ও গোয়াদর বন্দর ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।"
পাকিস্তান কাস্টমস ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে দেশটির বন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য আরও কার্যকর করে তুলতে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি অফ-ডক টার্মিনালগুলোতে আন্তর্জাতিক পণ্য সংরক্ষণের সুবিধা চালু করা হয়েছে, যাতে বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ে এবং দ্রুত পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করা যায়।
এছাড়া তাফতান, রিমদান, সোস্ত ও গোয়াদরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টগুলোকে জেনেভা ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রোড ট্রান্সপোর্ট ইউনিয়ন (আইআরইউ)-এর আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে পাকিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকার মনে করছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বন্দর কার্যক্রমে গতি আসবে এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার হবে। একই সঙ্গে এটি দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতেও ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় অর্থনীতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর সঙ্গে একটি প্রাথমিক চুক্তিও হয়েছে, যার ফলে দেশটি প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলারের কিস্তি পাওয়ার পথে রয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং রপ্তানিতে বিদ্যমান বাধা দূর করতে পাকিস্তান এখন আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে।