চীনের স্নাতকসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা © সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার শুরু করেছে চীন। দেশের উন্নয়নের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ শিল্পের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে ১২ হাজারের বেশি স্নাতক ডিগ্রি বাতিল করে প্রযুক্তিকেন্দ্রিক নতুন কোর্স চালু করছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
রোববার (১৪ জুন) চীনা সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে চীনের ৩০ শতাংশেরও বেশি ডিগ্রিতে সংশোধন আনা হয়েছে। কলা, মানবিক ও ভাষাভিত্তিক বিষয়গুলোর পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ শিল্পে বৈশ্বিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে চীন। একই সঙ্গে স্নাতকদের কর্মসংস্থান সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে দেশটি। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে লাখ লাখ তরুণ চাকরি খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যে বরাতে জানিয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ১২ হাজার ২০০টি স্নাতক ডিগ্রি প্রোগ্রাম বাতিল বা স্থগিত করেছে। একই সময়ে চালু করা হয়েছে ১০ হাজার ২০০টি নতুন প্রোগ্রাম। এর ফলে পরিবর্তন এসেছে দেশের ৩০ শতাংশেরও বেশি প্রোগ্রামে।
বাতিল হওয়া ডিগ্রিগুলোর বড় অংশই কলা, মানবিক, বিদেশি ভাষা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। চীনে এসব ক্ষেত্রকে ক্রমশ সেকেলে হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমন এক সময়ে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যখন দেশটিতে তরুণদের বেকারত্বের হার ১৬ শতাংশের বেশি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে চাকরির বাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
অন্যদিকে নতুন চালু হওয়া কোর্সগুলোর অনেকগুলোই বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। উদাহরণ হিসেবে, নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ‘এমবডিড ইন্টেলিজেন্স’ বিষয়ে নতুন মেজর চালু করেছে, যা বাস্তব অর্থনীতিতে পরবর্তী প্রজন্মের এআই প্রযুক্তির ব্যবহার ত্বরান্বিত করার জাতীয় উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর চাপ বেড়েছে। কারণ, প্রতিবছর রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী স্নাতক হলেও অনেকেই দেখছেন, তাদের ডিগ্রি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে খুব একটা সহায়ক হচ্ছে না।