ঘণ্টার কাজ মিনিটে, কর্মক্ষেত্রে জনপ্রিয় হচ্ছে এআই টুলস

১৪ জুন ২০২৬, ১০:২৯ AM , আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ AM
কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন এইআইয়ের ব্যবহার বাড়াচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান

কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন এইআইয়ের ব্যবহার বাড়াচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান © এআই দিয়ে তৈরিকৃত ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন শুধু প্রযুক্তি খাতের আলোচনার বিষয় নয়, বরং আধুনিক কর্মক্ষেত্রের দৈনন্দিন কাজের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে উঠে এসেছে। ইমেইল লেখা, ডেটা বিশ্লেষণ, প্রেজেন্টেশন তৈরি কিংবা মিটিংয়ের নোট সংরক্ষণ—আগে যেসব কাজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত, এখন সেগুলোর অনেকটাই কয়েক মিনিটে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে এআইভিত্তিক বিভিন্ন টুলের মাধ্যমে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) একদিনে আবিষ্কৃত হয়নি; এটি কয়েক দশকের গবেষণার ফল। ১৯৫০ সালে ব্রিটিশ গণিতবিদ ও কম্পিউটার বিজ্ঞানী অ্যালান টিউরিং তাঁর বিখ্যাত গবেষণাপত্র ‘কম্পিউটিং মেশিনারি অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স’ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘মেশিন কি চিন্তা করতে পারে?’ ১৯৫৬ সালে জন ম্যাকার্থি প্রথম আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শব্দটি ব্যবহার করেন। একই বছর যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমাউথ কলেজে অনুষ্ঠিত এক গবেষণা কর্মশালাকে এআই গবেষণার আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে ধরা হয়।

বেশিরভাগ গবেষক জন ম্যাকার্থি-কে ‘এআইয়ের জনক’ বলে থাকেন। কারণ তিনিই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স শব্দটি চালু করেন এবং এআই গবেষণার ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৬ সালে অ্যালেন নিউয়েল, হারবার্ট এ. সাইমন এবং ক্লিফ শ মিলে লজিক থিওরিস্ট নামে একটি প্রোগ্রাম তৈরি করেন। এটিকে বিশ্বের প্রথম সফল এআই প্রোগ্রামগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়।

২০১০-এর দশকে স্মার্টফোন, ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে এআই দ্রুত জনপ্রিয় হতে শুরু করে। ২০২২ সালের নভেম্বরে ওপেনএআই চ্যাটজিপিটি চালু করলে এআই সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত ও ব্যবহৃত হতে শুরু করে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মানুষের বিকল্প নয়; বরং কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়ানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে অফিসের উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

চ্যাটজিপিটি ও জেমিনাই

অফিসের যোগাযোগ ও কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এআই টুলগুলোর মধ্যে রয়েছে চ্যাটজিপিটি ও গুগলের জেমিনাই। একটি সাধারণ নির্দেশনা দিলেই এসব টুল প্রফেশনাল ইমেইল, রিপোর্টের খসড়া, মিটিংয়ের সারসংক্ষেপ কিংবা বিভিন্ন ধরনের অফিসিয়াল কনটেন্ট তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি বানান ও ব্যাকরণ সংশোধন, লেখার টোন পরিবর্তন এবং দীর্ঘ নথির সংক্ষিপ্তসার তৈরিতেও এগুলো কার্যকর।

ডেটা বিশ্লেষণে এআই

বড় আকারের এক্সেল বা স্প্রেডশিট বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও এআই দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ফাইল আপলোড করে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিলে এআই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করে দিতে পারে, তৈরি করতে পারে চার্ট, গ্রাফ কিংবা বিশ্লেষণধর্মী রিপোর্ট। ফলে জটিল সূত্র বা ফর্মুলা না জেনেও ডেটা থেকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সহজ হয়।

প্রেজেন্টেশন তৈরিতে গামা

মিটিং, ব্যবসায়িক প্রস্তাবনা বা পিচ-ডেক তৈরির ক্ষেত্রে গামা দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ব্যবহারকারী শুধু বিষয়বস্তু বা মূল ধারণা দিলেই এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্লাইড, শিরোনাম, ছবি ও কনটেন্ট সাজিয়ে পেশাদার মানের প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে পারে। বিভিন্ন প্রযুক্তি বিশ্লেষণেও গামাকে ২০২৬ সালের অন্যতম কার্যকর প্রেজেন্টেশন টুল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : রবিবারের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির আভাস ট্রাম্পের, সময় মতভেদ তেহরানের

নোশন এআই: প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের সহকারী

টিমভিত্তিক কাজের সমন্বয়, মিটিং নোট সংরক্ষণ এবং প্রজেক্ট ট্র্যাকিংয়ে নোশন এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটি মিটিংয়ের আলোচনা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে করণীয় কাজ (অ্যাকশন এআই) আলাদা করতে পারে, নথির সারাংশ তৈরি করতে পারে এবং প্রজেক্ট ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ করে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নোশন ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি একটি কার্যকর উৎপাদনশীলতা টুল।

মিটিং নোট নেবে ফায়ারফ্লাইস ও অটার

অনলাইন মিটিংয়ের প্রতিটি কথোপকথন লিখে রাখা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে ফায়ারফ্লাইস এআই ও অটার এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিটিং রেকর্ড, ট্রান্সক্রিপশন এবং সারসংক্ষেপ তৈরি করতে পারে। মিটিং শেষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, করণীয় কাজ এবং আলোচনার মূল বিষয়গুলো সংক্ষিপ্ত আকারে পাওয়া যায়। প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা এগুলোকে ২০২৬ সালের অন্যতম কার্যকর মিটিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে বিবেচনা করছেন।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে শুধু এআই ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়, বরং কার্যকরভাবে নির্দেশনা বা ‘প্রম্পট’ দেওয়ার দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। যে কর্মীরা এআই টুলগুলো দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে পারবেন, তারা কর্মক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা পাবেন। বিশ্বজুড়ে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে এআইকে তাদের দৈনন্দিন কর্মপ্রবাহে যুক্ত করছে। ফলে প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।

দেশে কি আদৌ কোনো সরকার ব্যবস্থা আছে— ছাত্রীদের ওপর লাঠিচার্…
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
জাপান যাওয়া হলো না নিঝুমের, সড়কেই ঝরল প্রাণ
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ কারা?
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
ট্রেনের ছাদে উঠে প্রাণটাই হারালেন স্কুলশিক্ষক 
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
ক্ষোভে ফুঁসছে ইউরোপ: নেপথ্যে কারণ কী?
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে ‘ক্র্যাক ম্যানেজার্স ২০২৬’
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950