যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা © টিডিসি ছবি
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড (THAAD) ও প্যাট্রিয়টের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাডের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং প্যাট্রিয়টের প্রায় ৫০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ইতোমধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিই ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের হামলা থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরে আসার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
সিএনএনের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় ট্রাম্পের উপদেষ্টারা গত সপ্তাহান্তে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক অভিযান স্থগিত করার পরামর্শ দেন। তবে হোয়াইট হাউস এ দাবি অস্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক চাপের কারণেই ট্রাম্প ওই হামলা স্থগিত করেন।
এর আগে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছিল।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর হিসাব অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার সর্বাধুনিক দুই সংস্করণের প্রায় ২ হাজার ২০০টি ইন্টারসেপ্টর এবং থাড ব্যবস্থার ৪৫২টি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।
সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী তাদের দীর্ঘপাল্লার অত্যন্ত নিখুঁত ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রেরও প্রায় সবই ব্যবহার করেছে। একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সও। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়েও প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
সিএনএনের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদারের পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার সময় উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে গেলে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে—এমন বেশিরভাগ দেশই যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় এসব দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাও দুর্বল হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায় এবং তার জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালায়, তাহলে সেগুলো ঠেকানো কঠিন হতে পারে।
সূত্রগুলোর দাবি, অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার সতর্কবার্তা, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের কয়েকজন কট্টরপন্থী উপদেষ্টাও শেষ পর্যন্ত সপ্তাহান্তের পরিকল্পিত সামরিক অভিযান বাতিলের পক্ষে মত দেন।
তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস।
সিএনএনকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সব কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য এবং তারও বেশি প্রয়োজন মেটানোর মতো পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্রের মজুত রয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'অপারেশন এপিক ফিউরি দেখিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়ালে কী পরিণতি হতে পারে। তারপরও প্রেসিডেন্ট দেশীয় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি আরও বেশি অস্ত্র উৎপাদনের আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ বিশ্বের সেরা অস্ত্রগুলোই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হয়।'