ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি © সংগৃহীত
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সমঝোতা আলোচনা একটি ফোন কলের কারণে ভেস্তে যায় বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। খবর আনন্দবাজারের
তিনি জানান, আলোচনার মধ্যেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে হঠাৎ ফোন করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে চলমান সমঝোতার অগ্রগতি থেমে যায় এবং আলোচনা আর এগোতে পারেনি।
নেতানিয়াহু কী কারণে ফোন করেছিলেন বা কী কথা হয়েছিল সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি আরাঘচি। তবে তার ভাষ্য, ওই ফোন কলের ফলে আলোচনার দিক পরিবর্তিত হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার চেয়ে ইসরায়েলের স্বার্থই সেখানে বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকা যুদ্ধের মাধ্যমে যা পায়নি, তা সমঝোতার টেবিলে পাওয়ার চেষ্টা করছিল। তাই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।’
উল্লেখ্য, বৈঠক চলাকালীন ছয় থেকে ১২ বার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে ভান্সদের। ভান্স নিজেই সে কথা জানিয়েছেন। ফোন করা হয়েছিল মার্কো রুবিয়ো, পিট হেগসেথ, স্কট বেসেন্টদের মতো মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদেরও। কিন্তু নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথার বিষয়ে ভান্স মুখ খোলেননি। আরাঘচির এই দাবির পরও আমেরিকা নীরব। তাদের তরফে বা ইজ়রায়েলের তরফে আরাঘচির দাবি স্বীকার করা হয়নি। আবার উড়িয়েও দেওয়া হয়নি।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, একাধিক বিষয়ে আমেরিকা এবং ইরানের প্রতিনিধিরা সম্মত হয়েছিলেন। আলোচনা সফল হওয়ার পথেই এগোচ্ছিল। কিন্তু একটি বিষয়ই ‘কাঁটা’ হয়ে দাঁড়ায়। ইরান কোনও ভাবেই পারমাণবিক বোমা তৈরির ইচ্ছা থেকে সরে আসতে রাজি হয়নি বলে দাবি করেন ট্রাম্প। সে বিষয়ে তারা অনমনীয় ছিল। তার ফলে আমেরিকার পক্ষেও সমঝোতায় এগোনো সম্ভব হয়নি। ইরান অবশ্য দাবি করেছে, আমেরিকার ‘অযৌক্তিক’ দাবির কারণে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানে সমঝোতার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরেই হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা (ভারতীয় সময়) থেকে এই প্রণালীতে যাতায়াতকারী জাহাজগুলিকে আটকে দেবে আমেরিকা। ইরানকে শুল্ক দিয়ে কেউ এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে সন্ধ্যার পর থেকে যুদ্ধের পারদ নতুন করে চড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।