গোয়েন্দা অপারেশনে অনভিজ্ঞ গফম্যানকে মোসাদের প্রধান করলেন নেতানিয়াহু

১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৫ PM
 মোসাদের প্রধান রোমান গফম্যান

মোসাদের প্রধান রোমান গফম্যান © সংগৃহীত

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান হিসেবে নিজের সামরিক সচিব মেজর জেনারেল রোমান গফম্যানকে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আগামী ২ জুন দায়িত্ব নিতে যাওয়া গফম্যানের এই নিয়োগকে ইসরায়েলের পুরোনো গোয়েন্দা ব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মোসাদ ও অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের প্রধান দুইজনই এখন সংস্থার বাইরের মানুষ বা 'আউটসাইডার'। এটি মোসাদের প্রথাগত অভ্যন্তরীণ কাঠামোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শীর্ষ নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের মাধ্যমে নেতানিয়াহু প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা বিভাগে নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করলেন। 

২০২৩ সালে হামাসের হামলার পর থেকেই নেতানিয়াহু গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা প্রধানদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে গোয়েন্দা প্রধান আহারন হালিভা এবং ২০২৫ সালে সেনাপ্রধান হার্জি হালেভি ও শিন বেত প্রধান রোনেন বার পদত্যাগ করেন। বর্তমান মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়াই একমাত্র কর্মকর্তা যিনি আগামী জুনে তার পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারছেন।

নেতানিয়াহুর মূল লক্ষ্য ছিল এমন ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনা যাদের সংস্থার দীর্ঘদিনের প্রথাগত নিয়মের চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নীতিনির্ধারণের প্রতি আনুগত্য বেশি থাকবে। পাশাপাশি ব্যর্থ গোয়েন্দা ব্যবস্থায় নতুন রক্ত ও নতুন চিন্তা নিয়ে আসাও ছিল এই পরিবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তবে গফম্যানের এই নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনাও কম হচ্ছে না। তার ইংরেজিতে সাবলীলতার অভাব এবং সরাসরি গোয়েন্দা অপারেশনের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। এছাড়া অতীতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে নিয়ে পরিচালিত একটি বিতর্কিত অভিযানে তার ভূমিকা নিয়ে সেনাবাহিনী তাকে তিরস্কারও করেছিল। তবে বর্তমান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির তাকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত মোসাদের শীর্ষ পদে বসার পথ পরিষ্কার হয় তার।

গফম্যান ব্যক্তিগতভাবে একজন স্পষ্টভাষী এবং সংস্কারপন্থী মানুষ হিসেবে পরিচিত। অতীতে একজন কর্নেল থাকাকালীন তিনি তৎকালীন সেনাপ্রধানের কৌশলের প্রকাশ্যে সমালোচনা করতেও দ্বিধা করেননি। সাধারণত প্রত্যেক নতুন মোসাদ প্রধানই কিছু পরিবর্তন আনেন, যেমন—পুরনো বিভাগ বন্ধ করা বা নতুন বিভাগ খোলা এবং পছন্দের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া। 

তবে ধারণা করা হচ্ছে, গফম্যান তার পূর্বসূরিদের চেয়েও অনেক বেশি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারেন। যেহেতু সংস্থার বর্তমান কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ তার নিয়োগের বিরোধিতা করেছিল, তাই তিনি প্রচলিত মতামতের তোয়াক্কা না করে স্বাধীনভাবে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পাবেন। সমালোচকরা এই পরিবর্তনের ফলে মোসাদ রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার ভয় পেলেও আশাবাদীরা মনে করছেন, গফম্যানের সাহসিকতা সংস্থাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

টেবিল টেনিস খেলোয়ার খই খইয়ের রাজসিক বিদায়
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দূরত্ব থাকার পরও বিদ্যালয়ে নিয়মিত যাওয়া ছাত্রীদের সাইকেল দে…
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই বিক্রি করায় ইউপিএলের বিক্রয়কেন্দ্রে …
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নরসিংদী সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে ১১৭ পদে জনবল নিয়োগ
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মির্জা ফখরুলের আসনে উপনির্বাচনে বৈধ ৬ প্রার্থী, বিএনপিরই ২ …
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে সব মাদ্রাসার অধ্যক্ষ-সুপারকে জরুরি…
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬