মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সর্বশেষ যা জানা গেল

১১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৫ PM
 মোজতবা খামেনি

মোজতবা খামেনি © সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মারাত্মক আঘাত কাটিয়ে এখনো সেরে উঠছেন বলে জানা গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতে চালানো এক বিমান হামলায় তাঁর বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। একই হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতরভাবে আহত হন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে।

সূত্রগুলো জানায়, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে সর্বোচ্চ নেতার কম্পাউন্ডে চালানো ওই হামলায় ৫৬ বছর বয়সী এই নেতার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে যায় এবং এক বা দুই পায়েই গুরুতর আঘাত লাগে। বর্তমানে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকলেও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সচেতন আছেন বলে জানা গেছে। তিনি সরাসরি উপস্থিত না হয়ে অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলোতে অংশ নিচ্ছেন এবং যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাসহ রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।

কয়েক দশকের মধ্যে ইরান যখন সবচেয়ে সংকটময় সময় পার করছে, তখন তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থা রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁকে কতটা সক্ষম রাখছে—এই প্রশ্নটি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমন এক পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোজতবা খামেনির কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়নি, যার ফলে তাঁর অবস্থান, শারীরিক অবস্থা এবং শাসনক্ষমতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। খামেনির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে দীর্ঘদিন পর এটিই সবচেয়ে বিস্তারিত তথ্য হলেও রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করতে পারেনি এবং জাতিসংঘে ইরানের মিশনও এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই খামেনি আহত হন এবং ওই হামলায় তাঁর বাবা ছাড়াও পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হন। ইরানের পক্ষ থেকে এখনো তাঁর আঘাতের মাত্রা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সংবাদ পাঠক তাঁকে ‘জানবাজ’ বলে উল্লেখ করেছেন, যা সাধারণত যুদ্ধে গুরুতর আহতদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত ১৩ মার্চ বলেছিলেন, খামেনি আহত হয়েছেন এবং তাঁর চেহারা বিকৃত হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, তিনি সম্ভবত একটি পা হারিয়েছেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে, তবে সিআইএ ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক অ্যালেক্স ভাটাঙ্কা মনে করেন, আঘাত যতই গুরুতর হোক, নতুন ও তুলনামূলক অনভিজ্ঞ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির পক্ষে তাঁর বাবার মতো পূর্ণ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে। তিনি বলেন, ‘মোজতবা একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ হবেন, তবে এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হবেন না। তাকে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।’

খামেনির ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে এক থেকে দুই মাসের মধ্যে তাঁর ছবি প্রকাশ করা হতে পারে এবং তিনি প্রকাশ্যেও আসতে পারেন।

ইরানের শাসনব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতার হাতেই চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকে, যিনি নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের ওপর তদারকি করেন এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রাখেন। ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ছিলেন বিপ্লবের প্রধান নেতা এবং তাঁর কর্তৃত্ব ছিল প্রশ্নাতীত। তাঁর উত্তরসূরি আলী খামেনি ধীরে ধীরে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করেন। 

তবে মোজতবা খামেনির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন এবং বিভিন্ন সূত্র আগেই জানিয়েছে যে তাঁর হাতে বাবার মতো পূর্ণ ক্ষমতা নেই; যুদ্ধ চলাকালে কৌশলগত সিদ্ধান্তে রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। এর আগে বাবার দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন।

তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি কঠোর নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে গত ১২ মার্চ প্রথমবারের মতো লিখিত বার্তা দেন মোজতবা খামেনি, যেখানে তিনি হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার পক্ষে মত দেন এবং অঞ্চলের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি বন্ধ করার সতর্কবার্তা দেন। এরপর আরও কয়েকটি সংক্ষিপ্ত লিখিত বার্তা দেওয়া হলেও যুদ্ধ, কূটনীতি বা অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা। 

এদিকে খামেনির অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে এবং অনেকেই তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, এমনকি ‘মোজতবা কোথায়?’ লেখা একটি খালি চেয়ারের ছবিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সরকারের সমর্থকদের কেউ কেউ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার ঝুঁকি থাকায় তাঁর প্রকাশ্যে না আসাই নিরাপদ। কুম শহরের বাসিজ বাহিনীর এক সদস্য এক বার্তায় বলেন, ‘তিনি কেন প্রকাশ্যে আসবেন? এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার জন্য?’

সংবাদসূত্র: রয়টার্স ও জেরুজালেম পোস্ট 

বাতের ব্যথার জন্য দায়ী খাওয়াদাওয়া, কী বলছে গবেষণা?
  • ১১ অক্টোবর ২০২৬
সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ালে ৩১ সালের নির্বাচনে জয়ের দ্বার উন্মোচ…
  • ১১ অক্টোবর ২০২৬
অভিজিৎ দীপকেসহ সিজেপির তিন নেতাকে মুক্তি
  • ১১ অক্টোবর ২০২৬
​ওজন কমাতে কার্যকর ৯ ব্যায়াম, শুরু করতে পারেন আজই
  • ১১ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ ও সৌদি সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসে এনএসইউ–বিআইআইএসএসের জ…
  • ১১ অক্টোবর ২০২৬
মাদ্রাসায় শিশুদের শিকলে বেঁধে নির্যাতন, ভাইরাল ভিডিও
  • ১১ অক্টোবর ২০২৬