ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক © সংগৃহীত
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বহুল প্রতীক্ষিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা আজ শনিবার বিকেলে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাসনিম নিউজের বিশেষ প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এই আলোচনা স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শুরু হওয়ার খবর দিলেও বাস্তবে তা সঠিক নয়।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিক আলোচনার আগে ইরানি ও মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠকে মিলিত হবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও প্রাথমিক আলোচনার পরই দুই দেশের প্রতিনিধিরা মূল বৈঠকে বসবেন, যার ফলে বিকেলের আগে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
চরম উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার আলোকেই ইসলামাবাদে এই আলোচনার পথ সুগম হয়েছে। এ আলোচনার জন্য ইরান ইতোমধ্যে ১০ দফা বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা পেশ করেছে, যার মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার মতো কঠোর দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসলামাবাদে পৌঁছাছেন জেডি ভ্যান্স, ইরানের সঙ্গে ‘হয় এসপার নয় ওসপার’
তবে আলোচনার টেবিলে বসলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চরম অনাস্থা বজায় রেখেছে তেহরান। ইরানি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আলোচনা কেবল সংঘাত নিরসনের জন্য নয়, বরং যুদ্ধের ময়দানকে কূটনৈতিক অঙ্গনে স্থানান্তরিত করার একটি কৌশল মাত্র। বর্তমানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর এখন ইসলামাবাদের বিকেলের এই সম্ভাব্য বৈঠকের দিকে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী এবং বেশ কয়েকজন সামরিক কমান্ডার হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনার পর ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযানের বিপরীতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও ইসরায়েল ও এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা শক্তিশালী আক্রমণ চালায়। দীর্ঘ ৪০ দিন ধরে চলা ইরানের এই পাল্টাহামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়।