ইরান © সংগৃহীত
বরফ গলতে শুরু করেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। এবার মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আগ্রাসনমুলক হামলা থামাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ দফা দাবি জানিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত রাতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই জবাব পাঠানো হয়েছে এবং ওয়াশিংটনের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
জানা গেছে ট্রাম্পের দেওয়া ১৫ দফার জবাবে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে নিজস্ব ৫টি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। যেখানে তেহরান জানিয়েছে,
১. ইরান ও আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর সব ধরনের ‘আগ্রাসন ও সন্ত্রাস’ বন্ধ করতে হবে,
২. ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে আর কোনো যুদ্ধ হবে না- এমন নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি দিতে হবে,
৩. যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে,
৪. কেবল ইরান নয়, মধ্যপ্রাচ্যের সব ‘প্রতিরোধ গোষ্ঠী’র বিরুদ্ধে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এবং
৫. হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের ‘স্বাভাবিক ও আইনি’ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দিতে হবে।
শান্তি প্রস্তাবের জবাব দিলেও যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের সদিচ্ছা নিয়ে চরম সন্দেহ প্রকাশ করেছে তেহরান। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই আলোচনা প্রচেষ্টাকে আমেরিকার ‘তৃতীয় প্রতারণা প্রকল্প’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ইরানের দাবি, আলোচনার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়:
ক. বিশ্ববাসীর কাছে নিজেদের ‘শান্তিকামী’ হিসেবে জাহির করা।
খ. বিশ্ববাজারে তেলের দাম কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রাখা।
গ. দক্ষিণ ইরানে স্থলপথ দিয়ে বড় ধরনের আগ্রাসন চালানোর জন্য সময়ক্ষেপণ করা।
ইরানি সূত্রটি আরো উল্লেখ করেছে যে, গত বছরের ‘১২ দিনের যুদ্ধ’ এর সময় আলোচনার টেবিলে থাকাকালীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অতর্কিত হামলা শুরু করেছিল। ফলে আমেরিকার আলোচনার টেবিলে বসার সদিচ্ছা নিয়ে এখন তেহরানের মনে বিন্দুমাত্র বিশ্বাস অবশিষ্ট নেই। তারা মনে করছে, এবারও আলোচনার কথা বলে নতুন কোনো ‘বড় অপরাধের’ ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে পেন্টাগন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালানোর পর থেকেই মূলত দীর্ঘদিনের পরমাণু আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের প্রস্তাবের পর ইরানের এই পাল্টা অবস্থান যুদ্ধ বিরতির সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তুলল।