ভারতীয় যুবক © সংগৃহীত
স্ত্রীকে খুন করে পালিয়ে যাওয়া ভারতীয় যুবক ভদ্রেশকুমার চেতনভাই পটেলের খোঁজে এফবিআইর পুরস্কার বৃদ্ধি করেছে। যে কেউ তাকে ধরতে সাহায্য করলে ১০ লাখ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯.২ কোটি টাকা) পুরস্কার পাবেন।
ভদ্রেশকুমারের জন্ম ১৯৯০ সালের ১৫ মে গুজরাতের বিরমগামে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে তিনি পলক পটেলকে বিয়ে করেন। ২০১৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সেখানেই বসবাস শুরু করেন তারা। মেরিল্যান্ডের হ্যানোভারের আরুন্ডেল মিলস বুলেভার্ডে একটি ডোনাট দোকানে চাকরি করতেন দম্পতি।
২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল রাতের শিফটে দোকানের মধ্যে পলককে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন ভদ্রেশকুমার। এরপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে পলকের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে কিছু ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং নগদ টাকা নিয়ে বেরিয়ে যান। একটি ট্যাক্সি ধরেন, যা তাঁকে নেওয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে হোটেলে পৌঁছে দেয়। পরের দিন সকালে হোটেল থেকে বের হয়ে নেওয়ার্ক পেন স্টেশনে পৌঁছান, সেখান থেকেই শেষ দেখা যায় তাঁকে।
এফবিআই জানিয়েছে, ভদ্রেশকুমার সশস্ত্র এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক। তদন্তকারীদের ধারণা, কানাডা, ভারত বা আমেরিকায় বিশেষ যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি গা ঢাকা দিতে সক্ষম হয়েছেন। ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল তার নাম এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় যুক্ত হয়।
বাল্টিমোরের ভারপ্রাপ্ত বিশেষ আধিকারিক জিমি পল বলেছেন, ‘আমরা আশা করছি ভদ্রেশকুমার পটেলের জন্য ১০ লক্ষ ডলারের পুরস্কারের ঘোষণা আমাদের অক্লান্ত অনুসন্ধানের প্রতি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করবে এবং পলক পটেলকে ন্যায়বিচার দেওয়ায় আমাদের সাহায্য করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পটেলের অপরাধ এবং এফবিআইয়ের ১০ জন মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকায় থাকার গুরুত্ব বোঝাতেই পুরস্কারের অর্থ বৃদ্ধি করা হয়েছে।’
এফবিআইর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকা ১৯৫০ সালে শুরু হয়, জনসাধারণের সহায়তায় বিপজ্জনক পলাতকদের শনাক্ত করার জন্য। যারা ভদ্রেশকুমারের অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য জানেন, তারা সরকারি নম্বর বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এফবিআইকে জানাতে পারবেন। এফবিআই সতর্ক করেছে, জনসাধারণ সরাসরি অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা করবেন না।