তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে জনগণকে কুকুরের মাংসের স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ উত্তর কোরিয়ার

০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৭ PM
 কুকুরের মাংসের স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ উত্তর কোরিয়ার

কুকুরের মাংসের স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ উত্তর কোরিয়ার © সংগৃহীত

তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে জনগণকে গরমজনিত ক্লান্তি মোকাবিলায় কুকুরের মাংসের স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দেশটির দাবি, এই ঐতিহ্যবাহী খাবার শরীরে শক্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে। তবে এ সুপারিশকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

দক্ষিণ চায়না মর্নিং পোস্টের (এসসিএমপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রচণ্ড গরম মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার।

কুকুরের মাংসের স্যুপ খাওয়ার সুপারিশ বিশেষ করে প্রাণীপ্রেমী ও প্রাণী অধিকারকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তাদের কাছে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত।

এসসিএমপির তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির মুখপত্র রোডং সিনমুন প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকার উপায় নিয়ে একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ প্রকাশ করেছে।

সেখানে পিয়ংইয়ং জেনারেল হাসপাতালের এক চিকিৎসক সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস ও হাইপারথাইরয়েডিজমের মতো রোগকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এ কারণে তরমুজ, শসা, মুগ ডাল, মাছের পায়েস ও লাল শিমের পায়েস খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কুকুরের মাংসের স্যুপকেও গ্রীষ্মের জন্য পুষ্টিকর খাবার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ায় এই খাবারটি স্থানীয়ভাবে ‘ডাংগোগি গুক’ নামে পরিচিত। বহু দশক ধরে এটি দেশটির গ্রীষ্মকালীন ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

সেখানে অনেক মানুষের বিশ্বাস, বছরের সবচেয়ে গরম সময়ে কুকুরের মাংসের স্যুপ শরীরের শক্তি ফিরিয়ে আনে এবং তাপজনিত ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।

উত্তর কোরিয়ার সাবেক কূটনীতিক রি চোল দিস উইক ইন এশিয়াকে বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমের দিনে অনেকেই এই খাবার খেয়ে থাকেন। তবে এটি বেশ ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে নিয়মিত খাওয়া সম্ভব হয় না।’

তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা দেখায় কুকুরের মাংসের স্যুপ তাপজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধে বিশেষ কোনো কার্যকারিতা রাখে।

এসসিএমপির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া বহু বছর ধরেই কুকুরের মাংসের স্যুপকে তাদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতির অংশ হিসেবে প্রচার করে আসছে। সরকার এই খাবার পরিবেশনকারী বিশেষায়িত রেস্তোরাঁকে উৎসাহ দিয়েছে, বিভিন্ন আঞ্চলিক রেসিপিকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং পিয়ংইয়ংয়ে কুকুরের মাংস রান্নার প্রতিযোগিতারও আয়োজন করেছে।

অন্যদিকে এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২৪ সালে দেশটি একটি যুগান্তকারী আইন পাস করে, যাতে মানুষের খাদ্য হিসেবে কুকুর পালন, জবাই, বিতরণ ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

তিন বছরের রূপান্তরকাল শেষে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর হবে।

ফলে যেখানে উত্তর কোরিয়া এখনও কুকুরের মাংসের স্যুপকে গ্রীষ্মের ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে প্রচার করছে, সেখানে দক্ষিণ কোরিয়া ধীরে ধীরে কুকুরের মাংসের বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে এই পরামর্শ এমন সময়ে দেওয়া হয়েছে, যখন উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া—উভয় দেশই সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম ভয়াবহ তাপপ্রবাহের মুখোমুখি।

হত্যার পর ছাদজুড়ে পানি ঢালল কে? আসামির স্বজন ও পুলিশের বক্ত…
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষিকার মৃত্যু: সেই ছিনতাইকারীদের ভিডিও …
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রধান শিক্ষককে হেনস্তার অভিযোগ বিএনপি নেতা ও তার ভাইয়ের বি…
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
ধোবাউড়ায় ভারতীয় ৭টি গরু আটক
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
এমপিওভুক্ত শিক্ষক পরিষদের সভাপতি সোহাগ, সম্পাদক হানিফ
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
খাদ্যগুদামে অনিয়ম হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে: …
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬