এআইয়ের ভুলে চীনা যুদ্ধজাহাজে হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৬ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাছে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন পৌঁছায়। এতে দাবি করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে একটি চীনা জাহাজে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সরঞ্জাম বহন করা হচ্ছে। প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর জাহাজটি আটকের প্রস্তুতি নেয় মার্কিন সামরিক বাহিনী। এমনকি জাহাজে সশস্ত্র সেনা পাঠানোরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত জানা গেল সেই অভিযানের বাস্তব অস্তিত্বই নেই বরং সেটি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। খবর সিএনএনের

প্রতিবেদনে সিএনএন জানিয়েছে, অভিযানের ঠিক আগে কর্মকর্তারা জানতে পারেন, বিশেষ অভিযান কমান্ডের এক বিশ্লেষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় প্রতিবেদনটি তৈরি করেছিলেন। যে চ্যাটবট ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি জাহাজে থাকা পণ্য সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ঘটনার সঙ্গে পরিচিত চারটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটি আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। দুই সূত্র জানিয়েছে, জাহাজে ওঠার জন্য সশস্ত্র মার্কিন সেনারাও প্রস্তুত ছিলেন। এ ছাড়া সামরিক বিমানও আকাশে উড়ছিল বলে জানিয়েছেন দুই সূত্র। একটি সূত্রের ভাষ্য, গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে সেটি ‘প্রায় একটি যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছিল’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কারণ চীনা জাহাজের বিরুদ্ধে মার্কিন কোনো অভিযান দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাওয়াইভিত্তিক ইউএস স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড প্যাসিফিকের কাছ থেকে পাওয়া জাহাজটির পণ্য তালিকা নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করছিলেন ওই কর্মকর্তা। এ সময় তিনি একটি চ্যাটবটকে তথ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। চ্যাটবটটি সরকারি সংরক্ষণে থাকা গোপন সিগন্যাল গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে উন্মুক্ত উৎসের তথ্য একত্র করে জাহাজে থাকা পণ্য সম্পর্কে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। তবে সেই সিদ্ধান্ত ছিল ভুল।

এরপর ওই বিশ্লেষক আবার এআই ব্যবহার করে তথ্যগুলোকে সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত প্রচলিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনের আকার দেন। পরে সেটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

চ্যাটবটটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত কোনো সেবা ছিল নাকি মার্কিন সরকারের নিজস্ব এআই ব্যবস্থা—তা স্পষ্ট নয়। এআই ব্যবস্থাগুলো সম্পর্কে অভিজ্ঞ সাবেক এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ সরঞ্জামগুলো মূলত বাণিজ্যিক প্রযুক্তিরই সংস্করণ, শুধু একটু সাজিয়ে নেওয়া।’

মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ, বাজেট ব্যবস্থাপনা, রসদ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের কাজে এআই ব্যবহারের চেষ্টা করছে। এর মূল কারণ হিসেবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার কথা বলা হচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে কিংবা কোন সামরিক সরঞ্জাম কোথায় পাঠানো হবে—এ ধরনের সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে এআই সহায়তা করতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এআই ব্যবহারে পিছিয়ে পড়লে ভবিষ্যতে চীন বা অন্য কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে পিছিয়ে যেতে পারে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামরিক বাহিনীতে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়াতে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাকসেলারেশন স্ট্র্যাটেজি’ প্রকাশ করেন। কৌশলটির লক্ষ্য সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে এআই ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো। এ জন্য প্রায় ৩০ লাখ বেসামরিক ও সামরিক কর্মীর কাছে বিভিন্ন পর্যায়ের এআই মডেল পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে মার্কিন সরকারের বিভিন্ন অংশে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বিভিন্ন সংস্থা ও ইউনিট আলাদা আলাদা এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। আবার তাদের জন্য নিরাপত্তা ও যাচাইয়ের মানদণ্ডও এক নয়। ফলে এআই ব্যবস্থাগুলোর নির্ভরযোগ্যতা ও সক্ষমতার মধ্যেও বড় পার্থক্য রয়েছে।

এআই নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তিবিদ ও প্রধান নির্বাহীদের কাছ থেকে মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির সতর্কবার্তা এসেছে। তবে চীনা জাহাজের ঘটনাটি এআইয়ের আরও তাৎক্ষণিক একটি ঝুঁকি সামনে এনেছে।যেখানে বলা হচ্ছে এআই বা স্বয়ংক্রিয় কোনো ব্যবস্থার দেওয়া ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মানুষ ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

বিশ্বজুড়ে সামরিক বাহিনীতে লক্ষ্য নির্ধারণের কাজে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভুলের পরিণতি প্রাণঘাতী হতে পারে। বর্তমান সামরিক নীতির সঙ্গে পরিচিত এক সূত্র বলেন, ‘লক্ষ্য নির্ধারণে এআইয়ের ব্যবহার অবশ্যই বাড়ছে। তবে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একজন মানুষকে সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে রাখলেই বেসামরিক মানুষের মৃত্যু বা নিজেদের বাহিনীর সদস্যদের ওপর ভুল হামলা কীভাবে ঠেকানো যাবে, সে বিষয়ে প্রকৃত কোনো নির্দেশনা নেই।’
গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের মধ্যেও এ ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

এআই ব্যবহারের বিস্তার শুরুর পর থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে চ্যাটবটের হ্যালুসিনেশন বা অস্তিত্বহীন তথ্য তৈরি করার ঘটনা ঘটেছে। পুরোনো প্রজন্মের অনেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এআই ব্যবহারের পক্ষে থাকলেও তারা মনে করেন, প্রযুক্তিটি বিশ্লেষকদের দ্রুত তথ্য তৈরি ও প্রকাশের চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে ভুলের সুযোগও বাড়ছে। তরুণ বিশ্লেষকেরা এআই সরঞ্জামে বেশি অভ্যস্ত হওয়ায় অনেক সময় যাচাই না করেই এসব ব্যবস্থার দেওয়া তথ্যের ওপর আস্থা রাখেন।

কুবি শিক্ষিকার ছেলের মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে উদ্ধার
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‎জবির দ্বিতীয় গেট জুড়ে বাসের সারি, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরি, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‎কে হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মনোনীত জাবি সিন্ডিকেট সদস্য?
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্যাটে-বলে ব্যর্থ সাকিব, হারল দলও
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নির্যাতনের চিহ্ন, কোথাও পোড়ানো— ‘একই কায়দায়’ ফেলে রাখা ৯ না…
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬