জবিতে সারিসারি বাস পার্কিং © টিডিসি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় গেট থেকে শান্ত চত্বর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সড়কের একটি বড় অংশ বাসের দখলে থাকায় প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বিতীয় গেট থেকে শান্ত চত্বরমুখী সড়কের বিভিন্ন স্থানে সারিবদ্ধভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দাঁড়িয়ে রয়েছে। এতে সড়কের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ক্লাস শুরু ও ছুটির সময়ে শিক্ষার্থীদের চাপ বাড়লে ওই স্থানে যান ও পথচারী চলাচলে তৈরি হচ্ছে বাড়তি ভোগান্তি।
দ্বিতীয় গেটের আশপাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি চা, নাস্তা ও খাবারের দোকান। এসব দোকানকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি থাকে। এর মধ্যে সড়কের একাংশজুড়ে বাস দাঁড়িয়ে থাকায় শিক্ষার্থীদের চলাচলে আরও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে আইন বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের আয়তন তুলনামূলক ছোট হলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাস দাঁড়িয়ে থাকলে সীমিত জায়গার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। অনেক সময় সংকুচিত জায়গা দিয়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষে দ্বিতীয় গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় বাসের সারির কারণে সংকুচিত পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হন। একই সময়ে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহন খন্দকার বলেন, সড়কের বড় অংশজুড়ে বাস দাঁড়িয়ে থাকায় স্বাভাবিক চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে ক্লাস শুরু ও ছুটির সময়ে ভোগান্তি বাড়ে।
ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তফা কামাল বলেন, বাসের সারির কারণে হাঁটার জায়গা বাড়তি চাপ হয়ে যায়। একই সময়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে বাস থাকায় শিক্ষার্থীদের চলাচলে সমস্যা হয়।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পরিবহন সুবিধা প্রয়োজন, তবে বাস রাখার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করা উচিত। এতে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চলাচলের সমস্যা কমবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক তারিক বিন আতিক বলেন, ক্যাম্পাসের ভেতরে জায়গা কম থাকায় বাইরেও বাস পার্কিং করতে হচ্ছে। বর্তমানে লক্ষ্মীবাজার থেকে কোর্ট এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে গাড়ি রাখতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার জন্য বর্তমানে ২৯টি বাস এবং আরও ১৩টি ভাড়া করা গাড়ি পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করতে গিয়ে সাময়িক কিছু সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তবে বিষয়টি সমাধানে চেষ্টা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে সায়েন্স বিল্ডিং, কলা ভবন, শান্ত চত্বরসহ বহিরাঙ্গনের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি রাখতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের চলাচলে যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়কের স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখতে বাস পার্কিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, পরিকল্পিত পার্কিং ব্যবস্থা করা হলে একদিকে পরিবহন ব্যবস্থাপনা সচল থাকবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের চলাচলের ভোগান্তিও কমবে।