বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইরান © সংগৃহীত
বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটির প্রধান কমান্ড সেন্টার এবং গোয়েন্দা সদরদপ্তর ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। এ ছাড়া, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ইন্টেলিজেন্স সেন্টার বা গোয়েন্দা কেন্দ্র এবং সামরিক ডিপো ধ্বংসের দাবিও করেছে তারা। মঙ্গলবার (৩ রা মার্চ) ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিবৃতিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, অপারেশন ‘ট্রু প্রমিজ-৪’ অভিযানের চতুর্দশ দফা হামলায় তারা বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটির প্রধান কমান্ড ভবন ও সদর দপ্তর ধ্বংস করেছে। আইআরজিসি নৌবাহিনী আজ ভোরে বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
আইআরজিসির বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই হামলায় ২০টি ড্রোন ও ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটির প্রধান কমান্ড ভবন ও সদর দপ্তর ধ্বংস করা হয়েছে এবং জ্বালানি ডিপোগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগুন ও ধোঁয়া চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
আজ মঙ্গলবার আইআরজিসি নৌবাহিনীর ড্রোন ইউনিট ‘ট্রু প্রমিজ-৪’ এর ত্রয়োদশ দফা হামলা শুরু করে। এতে কুয়েতের আরিফজান এয়ারফিল্ডে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়। আইআরজিসি পৃথক বিবৃতিতে জানায়, শত্রুকে বুঝতে হবে যে তাদের সমৃদ্ধির দিন শেষ। তারা নিজেদের ঘরেও কোনো নিরাপত্তা খুঁজে পাবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইসলামি বিশ্ব ও স্বাধীনতাকামীদের উদ্দেশে আমরা ঘোষণা করছি, বৈশ্বিক স্বৈরাচার ও জায়নবাদ ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম থামবে না। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা জালেম ও ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেব।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে উসকানিবিহীন আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে আইআরজিসি আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ এবং ইসরায়েল অধিকৃত ভূখণ্ডের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েল অধিকৃত ভূখণ্ড এবং আঞ্চলিক দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঢেউ শুরু করেছে।
সোমবার গভীর রাতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ট্রু প্রমিজ-৪’ অভিযানের অধীনে একাদশ দফা আক্রমণ নৌ ও মহাকাশ ইউনিটের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই ‘বিস্তৃত ও উচ্চ ঘনত্বের অভিযান’ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কেন্দ্র ও সামরিক সহায়তা গুদাম, অধিকৃত শহর বীরশেবায় ইসরায়েলের যোগাযোগ শিল্প কমপ্লেক্স, পাশাপাশি তেল আবিব, পশ্চিম আল-কুদস ও গ্যালিলির অধিকৃত অঞ্চলের ২০টি স্থাপনায় আঘাত হানে।
সেখানে আরো বলা হয়, শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ‘সাহসী সন্তানেরা’ ৭ শতাধিক বেশি ড্রোন ও শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ৬০টি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫০০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সংখ্যা এবং হামলার সাফল্যের হার ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে দেখা রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
আইআরজিসি জানায়, সাম্প্রতিক ‘নৃশংস ও সন্ত্রাসী’ হামলা যেখানে হাসপাতাল, স্কুল এবং জাতীয় গণমাধ্যম সংস্থা আইআরআইবির কার্যালয় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে—তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প আরও দৃঢ় করেছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে উসকানিবিহীন আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করে এবং ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনিকে হত্যা করার পর থেকে অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ এবং ইসরায়েল অধিকৃত ভূখণ্ডের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।