ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ: শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কোন দেশ কার পক্ষে?

০৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৯ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত চতুর্থ দিনে গড়ানোর পর বিশ্ব কূটনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তৎপরতা শুরু হয়েছে। টানা পালটাপাল্টি হামলা, উচ্চপর্যায়ের নেতাদের মৃত্যুর দাবি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে। কেউ সরাসরি নিন্দা জানিয়েছে, কেউ সতর্ক সমর্থন দিয়েছে, আবার কেউ ভবিষ্যৎ সামরিক জড়িত থাকার ইঙ্গিতও রেখেছে।

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির মুখে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, তিন দিনের হামলায় দেশটিতে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে অভিযানে তাদের ছয়জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। ইসরাইলও কিছু নাগরিক নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। এমন পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো এই সংঘাতকে কীভাবে দেখছে।

যুক্তরাজ্য: যুক্তরাজ্য স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা সরাসরি কোনো হামলায় জড়িত নয়। প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেন, লন্ডন এই সংঘাতে অংশ নেবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ নিতে পারবে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাইপ্রাসে তাদের একটি আরএএফ ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে সন্দেহভাজন ড্রোন হামলা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি এই হামলাকে ‘বাছবিচারহীন’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এতে মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ সেনা ও নাগরিকরা ঝুঁকিতে পড়ছেন।

চীন: চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে ‘সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব পক্ষকে সংযত থাকার এবং অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

রাশিয়া: রাশিয়া একই সুরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খামেনির হত্যাকে ‘নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বিস্তৃত হতে পারে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

জার্মানি: জার্মানি সরাসরি কোনো হামলার পক্ষে নয়, তবে ইরানের পালটা হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বার্লিনে সম্ভাব্য সামরিক সহযোগিতা যেমন বিমান হামলায় অংশগ্রহণ বা আকাশপথে সহায়তা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে।

ফ্রান্স: ফ্রান্স খামেনির মৃত্যুকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সতর্ক করেছেন, উত্তেজনা বাড়লে তা বৈশ্বিক শান্তির জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। মিত্র দেশের অনুরোধে ফ্রান্স নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য: ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস বলেন, কূটনৈতিক সমাধানই একমাত্র টেকসই উপায়। মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ফলকার টুর্ক সতর্ক করেছেন, যে কোনো সশস্ত্র সংঘাতে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অন্যান্য দেশ ও সংস্থা: ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি উত্তেজনা প্রশমনে মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ সমর্থন করছেন যাতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন, সংঘাত থামানো না গেলে তা বিশ্বশান্তির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

এই সংঘাতে বিশ্ব শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া শুরু করেছে—কেউ সরাসরি সমর্থন, কেউ নিন্দা, কেউ সতর্ক অবস্থান, আবার কেউ ভবিষ্যৎ সামরিক জড়িত থাকার ইঙ্গিত রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা থামানোর দিকেই এখন নজর বিশ্ব কূটনৈতিক মহলে।

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নেই গোবিপ্রবি, ক্ষোভ…
  • ০৬ মে ২০২৬
কক্সবাজারে লাবনী পয়েন্টে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার
  • ০৬ মে ২০২৬
লিমন ও বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দেবে মার্কিন বিশ্ব…
  • ০৬ মে ২০২৬
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন প্রকল্প গ্রহণে…
  • ০৬ মে ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের
  • ০৬ মে ২০২৬
নেত্রকোনায় এসএসসি পরীক্ষার এক কেন্দ্রের সব কর্মকর্তাকে অব্য…
  • ০৬ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9