হরমুজ প্রণালি © সংগৃহীত
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ তীব্রতর হওয়ায় সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত তার মজুদের হিসাব কষছে। গত শনিবার মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী নিহত হওয়ার পরদিন ইরান রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জানায়, তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। খবর এনডিটিভি।
বিশ্বের প্রধান জাহাজ চলাচলকারী সংস্থাগুলো এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে চলাচল স্থগিত করেছে। গত রবিবার ওমানের কাছে চলাচলরত একটি তেলের ট্যাঙ্কার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রণালী বন্ধ হলেও নিকট ভবিষ্যতে ভারতের তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা কম।
ফেব্রুয়ারির শুরুতে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী রাজ্যসভায় জানান, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট চাহিদা মেটাতে ভারতের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ ৭৪ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমরা শুধুমাত্র ভূগর্ভস্থ গুদাম নয়, বরং শোধনাগারগুলোর মজুদও হিসাব করি। আমাদের ভূগর্ভস্থ গুদাম অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্ণাটকে রয়েছে এবং শিগগিরই ওড়িশাতেও কাজ শুরু করার আশা করছি। সামগ্রিকভাবে, গুদাম, শোধনাগার, বন্দর ও ভাসমান প্ল্যাটফর্মে থাকা মজুদ মিলিয়ে এটি ৭৪ দিনে পৌঁছায়। আদর্শভাবে এটি ৯০ দিন হওয়া উচিত। মন্ত্রী হিসেবে আমি ৭৪ দিনের মজুদে নিরাপদ বোধ করছি, তবে ভবিষ্যতে এটি বাড়ানোর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।’
সরকারি হিসাবে, কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ দিয়ে প্রায় ৯.৫ দিন চাহিদা পূরণ সম্ভব। পাশাপাশি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে থাকা অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের মজুদ প্রায় ৬৭ দিন পর্যন্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে।
এদিকে তেল অর্থনীতিবিদ ও পরিকল্পনা কমিশনের প্রাক্তন সদস্য কিরিট পারেখ এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম বৃদ্ধির চাপ মোকাবিলায় ভারতের রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি বাড়ানো উচিত।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার বাড়লে ভারতের আমদানি ব্যয় প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। একইভাবে গ্যাসের দামও বাড়বে, কারণ ভারত তার মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে।
কিরিট পারেখ বলেন, ‘ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তি দেখাতে পারে যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ মার্কিন উদ্যোগেই শুরু হয়েছে। তাই তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে ভারতের রাশিয়া থেকে আরও অপরিশোধিত তেল আমদানি করা ছাড়া উপায় নেই।’