হোসিমার দিয়াস ভোজিনহা © সংগৃহীত
সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে কেপ ভার্দেকে নিয়ে খুব বেশি আশা ছিল না কারও। ম্যাচের আগে অনেকেই আলোচনা করছিলেন, কেপ ভার্দের জালে স্পেন ঠিক কতটি গোল দেবে। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সব হিসাবই বদলে দেয় কেপ ভার্দে। অসাধারণ শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, অদম্য লড়াই এবং গোলরক্ষক হোসিমার দিয়াস ভোজিনহার অনবদ্য পারফরম্যান্সে স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেয় বিশ্বকাপের নবাগত দলটি।
পুরো ম্যাচে ২৭টি শট নেয় স্পেন, এর মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। তবে প্রতিবারই কখনো ডাইভ দিয়ে, কখনো নিখুঁত পজিশনিংয়ে, আবার কখনো অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্সে সেগুলো প্রতিহত করেন ভোজিনহা। লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো ও ফেরান তোরেসদের মতো তারকাদের সামনে তিনি যেন একাই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের অসাধারণ পারফরম্যান্সই কেপ ভার্দেকে এনে দেয় বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম পয়েন্ট।
যদিও ক্লাব ফুটবলে খুব বেশি পরিচিত নাম নন ভোজিনহা। ২০১৯ সালে সাইপ্রাস কাপ জয়ের বাইরে তার সাফল্যের ঝুলিও খুব বড় নয়। বাজারমূল্যও মাত্র ৫০ হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭১ লাখ টাকা)। তবে জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি কেপ ভার্দের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফুটবলারদের একজন। আর বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এসে সেই পরিচয়টাই নতুন করে তুলে ধরলেন তিনি।
তবে স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ফল এনে দেওয়ার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। কারণ, জীবনের এমন স্মরণীয় মুহূর্তটি কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাননি তার মা। ম্যাচ সেরার পুরস্কার গ্রহণ করে দ্য অ্যাথলেটিকে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানান ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার।
তার ভাষ্যমতে, “আমি ম্যাচের পর কেঁদেছি। কারণ, আমি ছোটবেলায় দাদু-দাদির সঙ্গে বড় হয়েছি, তারা এখন আর বেঁচে নেই, তাই তারা আসতে পারেননি। আমার মা-ও ভিসা সমস্যার কারণে এখানে আসতে পারেননি। ভিসার খরচ ও আনুষঙ্গিক জটিলতার কারণে আমরা সময়মতো সবকিছু করতে পারিনি।”
পূর্ণ সমর্থনের জন্য দেশবাসীকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। এই গোলকিপার বলেছেন, "কেপ ভার্দের প্রতিটি মানুষের জন্য এই বার্তা, সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমরা আজকে খুবই খুশি। এই মুহূর্তের জন্য এই দলের সব ফুটবলার কঠোর পরিশ্রম করেছে। আজকের দিনটি গর্বের, আজকের দিনটি তৃপ্তির।"