করাচিতে শপিং মলে ভয়াবহ আগুন: নিহত ২৮, নিখোঁজ ৮১

২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৪ AM
করাচির ব্যস্ততম শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজা

করাচির ব্যস্ততম শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজা © সংগৃহীত

পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচির ব্যস্ততম শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৮১ জন। স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।

১৯৮০ সালে নির্মিত চারতলা বিশিষ্ট গুল প্লাজা করাচির অন্যতম বড় শপিং মল। একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড় এই মার্কেটে প্রায় এক হাজার ২০০টির বেশি দোকান রয়েছে। আগুনে এসব দোকানের বেশিরভাগই সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে।

গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গুল প্লাজায় আগুনের সূত্রপাত হয়। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো মার্কেটজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করতে হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে আগুনের কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা এত বেশি হওয়ার পেছনে গুল প্লাজার অব্যবস্থাপনাকেই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

করাচি ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, গুল প্লাজায় মোট ২৬টি গেট থাকলেও সাধারণ চলাচলের জন্য মাত্র দুটি গেট খোলা থাকত। অগ্নিকাণ্ডের সময় বাকি গেটগুলো বন্ধ থাকায় শত শত মানুষ মার্কেটের ভেতরে আটকা পড়েন। এ ছাড়া ভবনের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রগুলো কার্যকর ছিল না বলেও জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, করাচির ইতিহাসে এ ধরনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড আগে দেখা যায়নি। করাচি পুলিশের কর্মকর্তা ও চিকিৎসক ডা. সুমাইয়া সাঈদ জানান, নিহত ও আহতদের করাচির সিভিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিহত ২৮ জনের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা দিতে বলা হয়েছে। নিখোঁজ ৮১ জনের মধ্যে ৭৪ জনের নাম ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

বুধবার গুল প্লাজার প্রথম তলার উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।

উল্লেখ্য, করাচি পাকিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ সিন্ধের রাজধানী এবং দেশটির প্রধান বন্দরনগরী। পাকিস্তানের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

এ ঘটনায় করাচির গভর্নর কামরান তেসোরি নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

স্কুলে ইয়াবা বিক্রির সময় আটক ৩
  • ০৪ জুন ২০২৬
ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গণপিটুনিতে ১ জনের মৃত্যু
  • ০৪ জুন ২০২৬
ঢাকা দক্ষিণের ৬৩ ওয়ার্ড ডেঙ্গু ঝুঁকিতে, চরম ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি
  • ০৪ জুন ২০২৬
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন না ড. খলিলুর রহমান
  • ০৪ জুন ২০২৬
৫০টি হারানো ফোন উদ্ধার করে মালিকদের পৌঁছে দিল কক্সবাজার পু…
  • ০৪ জুন ২০২৬
মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ শিশুর অস্ত্রোপচার করা সেই অধ্যাপককে সর…
  • ০৪ জুন ২০২৬