কথা বলছেন ডা. শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলাম © সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের বক্তব্য দেওয়ার সময় ওয়াক আউট করেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান তারা।
পরে প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানান, রাষ্ট্রপতির তিন অপরাধের কারণে আমরা ওয়াক আউট করেছি।
এ সময় তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি তিনটা কারণে অপরাধী। যার বক্তব্য এই মহান সংসদে আমরা শুনতে পারি না।
প্রথমত, তার আমলে (জুলাই আন্দোলনসহ) যত খুন হয়েছে তিনি সমস্ত খুনের সহযোগী ছিলেন। তখন যে খুনগুলা হয়েছিল একটাও বিরুদ্ধে তিনি শাসক গোষ্ঠীর প্রতিবাদ করেননি। পাশাপাশি সেই খুনের তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রের অভিভাবক। অভিভাবক হিসেবে তিনি জঘন্য অপরাধ করেছেন রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতি।
দ্বিতীয়ত, আপনারা জানেন আগস্ট মাসের ৫ তারিখে তিনি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন। সেই ভাষণে তিনি বলেছিলেন তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা মঞ্জুর করেছেন। পরবর্তী পর্যায়ে আপনারা দেখেছেন দুইটা মিডিয়ার সাথে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি তা অস্বীকার করেছেন, নতুন গল্প সামনে নিয়ে এসেছেন। তিনি জাতির সামনে মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন। দেশের প্রেসিডেন্ট মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হওয়ার পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকা তার আর কোন নৈতিক অধিকার থাকে না।
তৃতীয়ত, তিনি নিজের হাতে অর্ডিন্যান্স সাইন করেছেন। এই জুলাই অভ্যুত্থানের পরে ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ নির্বাচন হবে। নির্বাচনের পরে যারা নির্বাচিত হবেন তারা দুইটা ক্যাপাসিটিতে নির্বাচিত হবেন। তারা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন এবং তারা একই সাথে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন।
একই দিনে উভয় শপথ একই ব্যক্তি পড়াবেন। অত্যন্ত দুঃখের এই শপথ দুটো আমরা নিলেও সরকারি দল নেয়নি। তার প্রথম দায়িত্ব ছিল গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের ভেতরে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা। তিনি সেই অধিবেশন ডাকেন নি। গণভোটে হার পক্ষে ভোট দিয়েছে ৭০ ভাগ মানুষ, তিনি ৭০ ভাগ জনগণকে অপমান করেছেন। এখানেও তিনি অপরাধ করেছেন।
এই তিন অপরাধের কারণে আমরা তার ভাষণ শুনতে চাইনি এবং আমরা সরকারি দলকেও অনুরোধ জানিয়েছিলাম অনুরোধ জানিয়েছিলাম তাকে যেন ভাষণ দিতে দেওয়া হয়। তারা আমাদের কথা শুনেননি। তাই আমরা সংক্ষুদ্ধ হয়ে সংসদ থেকে বের হয়ে এসেছি। আমরা আগামীতে এই সংসদে কোনো প্রকার অন্যায়কে আমরা বরদাস্ত করব না এবং মেনে নেব না। আমরা জনগণের স্বার্থের পক্ষে লড়াই করে যাব অধিকারের পক্ষে লড়াই করে যাব।