ট্রাম্প-মাদুরো © টিডিসি ফটো
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক আটকের দুর্ধর্ষ অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানান, গত ৩ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে 'অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ' শুরু করা হয়। এই বিশেষ অভিযানের জন্য গত কয়েক মাস ধরে গোপনে প্রস্তুতি নিচ্ছিল মার্কিন বাহিনী।
জেনারেল কেইনের বর্ণনা অনুযায়ী, রাজধানী কারাকাসে মাদুরো একটি সুরক্ষিত ঘাঁটিতে অবস্থান করছিলেন। তাকে আটক করতে হেলিকপ্টার পাঠানো হয় এবং হেলিকপ্টারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আকাশপথে মোতায়েন করা হয় ১৫০টি যুদ্ধবিমান। মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো শুরুতেই ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়ে তা অকার্যকর করে দেয়। অভিযানের সময় একটি হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ভেনেজুয়েলার সেনারা হামলা চালালেও সেটি সফল হয়নি। কোনো বড় ক্ষতি ছাড়াই মার্কিন বাহিনীর বিশেষ দলটি রাত ২টা ১ মিনিটে মাদুরোর মূল অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, পরিস্থিতির মুখে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস দুজনেই আত্মসমর্পণ করেন। তাদের নিয়ে ফিরে আসার সময় স্থানীয় প্রতিরোধ বাহিনীর সদস্যরা মার্কিন দলকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে তারাও পাল্টা গুলি চালায়। তবে এই সংঘাতে কোনো মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটেনি। পুরো অভিযান শেষে ভোর ৪টা ২৯ মিনিটের মধ্যে মাদুরোকে বহনকারী দলটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় পৌঁছে যায়। সেখান থেকে তাদের একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে তোলা হয়, যা বর্তমানে নিউইয়র্কের পথে রয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, অভিযানের সময় মাদুরো একটি ‘সেফ রুমে’ বা নিরাপদ কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু মার্কিন সেনাদের তৎপরতায় তিনি তা পারেননি। ট্রাম্পের মতে, মাদুরো সেই কক্ষে ঢুকতে পারলেও লাভ হতো না, কারণ মার্কিন বাহিনী দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার জন্য প্রস্তুত ছিল। তবে এই রক্তক্ষয়ী অভিযানের সময় মাদুরোর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী কতটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, সে বিষয়ে মার্কিন কমান্ডার সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি।