কিউবার প্রেসিডেন্ট © টিডিসি ফটো
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটকের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কিউবা। কিউবার রাজধানী হাভানায় মার্কিন দূতাবাসের সামনে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে উপস্থিত হয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল এই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান।
প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-ক্যানেল মার্কিন এই কর্মকাণ্ডকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইনের নিয়মনীতির এক মর্মান্তিক লঙ্ঘন। একটি শান্তিপূর্ণ জাতির বিরুদ্ধে এ ধরনের সামরিক আগ্রাসন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি ছিল না।
মূলত প্রতিবেশী দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর এমন আঘাতকে কিউবা বিশ্ব রাজনীতির জন্য এক অশনিসংকেত হিসেবে দেখছে।
এই সামরিক অভিযানের ফলে কিউবার অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত মারাত্মক সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভেনেজুয়েলা বর্তমানে কিউবার মোট জ্বালানি তেল আমদানির প্রায় ৩০ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে। এর বিনিময়ে কিউবা থেকে হাজার হাজার অভিজ্ঞ চিকিৎসাকর্মী ভেনেজুয়েলায় গিয়ে সেবা প্রদান করেন। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে কিউবার আগে থেকেই নড়বড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও জ্বালানি সরবরাহে এক বিধ্বংসী আঘাত আসবে।
এদিকে, ভেনেজুয়েলায় কর্মরত কিউবান চিকিৎসাকর্মী ও নাগরিকদের ভাগ্য নিয়ে তাঁদের আত্মীয়-স্বজনরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। তবে কিউবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শনিবার এক টুইট বার্তায় দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, সেখানে অবস্থানরত কর্মীরা বর্তমানে ‘নিরাপদ ও সুরক্ষিত’ আছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কিউবা সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মার্কিন এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।