মাদরো ও ট্রাম্প © সংগৃহীত ছবি
ভেনেজুয়েলায় ‘নিরাপদ ও যথাযথ’ ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই পরিচালনা করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নজিরবিহীন সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর শনিবার মার-এ-লাগোতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই অংশীদারত্ব দেশটির জনগণকে সমৃদ্ধ, স্বাধীন ও নিরাপদ করে তুলবে। তিনি নিকোলাস মাদুরোকে একজন ‘অবৈধ স্বৈরশাসক’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, মাদুরোর শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ পরিমাণে প্রাণঘাতী অবৈধ মাদক প্রবেশ করেছে এবং তিনি নিজে মাদক চক্র তদারকি করেছেন। ট্রাম্প আরও জানান, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী বর্তমানে একটি জাহাজে করে নিউইয়র্কের পথে রয়েছেন এবং সেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ নামের এই অভিযানে ১৫০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছে। কয়েক মাসের পরিকল্পনা ও মহড়া শেষে ভেনেজুয়েলার একাধিক রাজ্যের বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় এই হামলা চালানো হয়। মূলত মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ এনে গত সেপ্টেম্বর থেকে চলে আসা উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় এই চূড়ান্ত সামরিক পদক্ষেপ নিল ওয়াশিংটন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করেছেন যে, ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে অত্যন্ত জোরালোভাবে যুক্ত থাকবে। তবে এই ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। তিনি দাবি করেছেন, মাদুরোই ভেনেজুয়েলার একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট। এর আগে মাদুরো নিজেও মাদক পাচারের অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছিলেন এবং গত বৃহস্পতিবার আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।