ঢাকায় করমর্দন: ২০২৬ সালে কি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বরফ গলবে?

০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৭ PM , আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৩ PM
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর-স্পিকার আয়াজ সাদিক

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর-স্পিকার আয়াজ সাদিক © সংগৃহীত

ভারতের পুরুষ, নারী ও অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল সম্প্রতি যা করতে বারবার অস্বীকার করেছিল, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর ঠিক সেটিই করে দেখালেন। তিনি জনসমক্ষে পাকিস্তানের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে হাত মেলালেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে চলতি সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণ এশিয়ার একদল নেতা ঢাকায় সমবেত হয়েছিলেন। সেখানেই বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনের একটি ওয়েটিং রুমে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক। জয়শঙ্কর নিজ থেকে এগিয়ে গিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের কূটনীতিকদের সামনেই সাদিকের সঙ্গে করমর্দন করেন।

বুধবার রাতে একটি বেসরকারি নিউজ চ্যানেলে এই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএলএন)-এর অভিজ্ঞ নেতা আয়াজ সাদিক বলেন, “তিনি আমার দিকে হেঁটে এলেন এবং হ্যালো বললেন। তখন আমি উঠে দাঁড়ালাম, তিনি নিজের পরিচয় দিলেন এবং হাসিমুখে হাত মেলালেন। আমি যখন নিজের পরিচয় দিতে যাচ্ছিলাম, তিনি বললেন, 'আমি জানি আপনি কে, পরিচয় দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই’।” সাদিক আরও জানান, জয়শঙ্কর ওই রুমে ঢুকে প্রথমে নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করার পর সচেতনভাবেই তার দিকে এগিয়ে আসেন। তিনি বলেন, “তিনি জানতেন তিনি কী করছেন। ঘরে অন্য মানুষের উপস্থিতির বিষয়ে তিনি সচেতন ছিলেন এবং তার মুখে হাসি ছিল।”

এই করমর্দনের ছবিগুলো আয়াজ সাদিকের কার্যালয় এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়েছে। এই দৃশ্যটি গত সেপ্টেম্বরের পরিস্থিতির তুলনায় একদম ভিন্ন ছিল। তখন এশিয়া কাপের ম্যাচে ভারতের ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও তার সতীর্থরা পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকার করেছিলেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত সেই টুর্নামেন্ট ভারত জিতলেও দুই দেশের তিক্ততা তখন চরমে ছিল। বিশেষ করে গত মে মাসে চার দিনের এক আকাশ যুদ্ধের পর দুই দেশের বৈরিতা এক নতুন মাত্রা পায়। সেই উত্তেজনার প্রভাব খেলায় পড়লেও জয়শঙ্করের এই করমর্দন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক মোস্তফা হায়দার সাইয়্যেদ এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে আল জাজিরাকে বলেন, “আমি মনে করি জয়শঙ্কর ও আয়াজ সাদিকের এই সাক্ষাৎ নতুন বছরের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। কর্মকর্তাদের মধ্যে ন্যূনতম সম্মান প্রদর্শন এবং করমর্দনের মতো স্বাভাবিক শিষ্টাচার যা ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধের পর অনুপস্থিত ছিল, তা ফিরে আসা অত্যন্ত জরুরি।”

দুই দেশের সম্পর্কের এই অবনতি শুরু হয়েছিল গত এপ্রিলে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পাহলগামে এক হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনার পর। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে এবং ৬০ বছরের পুরনো 'সিন্ধু নদ জলচুক্তি' স্থগিত করে দেয়। এরপর মে মাসে দুই দেশ একে অপরের সামরিক ঘাঁটিতে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায়। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে যুদ্ধ বিরতি হলেও দুই দেশের মধ্যে তিক্ততা কমেনি। পাকিস্তান এই যুদ্ধ বিরতির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে, যদিও ভারত দাবি করে তারা সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই এটি করেছে।

সাবেক পাকিস্তানি কূটনীতিক সরদার মাসুদ খান এই করমর্দনকে একটি চমৎকার কূটনৈতিক সৌজন্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শীর্ষ নেতৃত্বের স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে থেকে পাকিস্তানের স্পিকারকে অভিবাদন জানাবেন, তা ভাবা যায় না।” তবে হিন্দুস্তান টাইমস-এর পররাষ্ট্র বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল হাসান লস্কর এই ঘটনার গুরুত্বকে কিছুটা ছোট করে দেখেছেন। তিনি বলেন, “দুই নেতা একই রুমে ছিলেন এবং এমন পরিস্থিতিতে উচ্চপর্যায়ের নেতারা যা করেন, তারা কেবল তাই করেছেন—একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন এবং কুশল বিনিময় করেছেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই সাক্ষাতের ছবিগুলো পাকিস্তান ও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেয়ার করা হলেও ভারতের পক্ষ থেকে তা করা হয়নি।

বর্তমানে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার পতনের পর ইসলামাবাদের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ঘনিষ্ঠতা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি পাকিস্তানকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। অন্যদিকে, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কূটনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে এবং ট্রাম্প ভারতের ওপর প্রায় ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন।

২০২৬ সালে কি তবে দুই দেশের শত্রুতা কমবে? বিশ্লেষক মোস্তফা হায়দার সাইয়্যেদ মনে করেন, ন্যূনতম একটি এজেন্ডা নিয়ে দুই দেশের আলোচনা চালিয়ে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, “আমি মনে করি ভারত এখন বুঝতে পেরেছে যে তারা পাকিস্তানের অস্তিত্বকে অস্বীকার করতে পারবে না বা এমন ভান করতে পারবে না যে পাকিস্তান সেখানে নেই। পাকিস্তান এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তি এবং ভারত এখন ন্যূনতম সম্পর্ক রাখতে বাধ্য হচ্ছে।” তবে মে মাসের যুদ্ধের তিক্ততা এবং আস্থার সংকটের কারণে অনেকেই মনে করছেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ এখনো অনেক চ্যালেঞ্জিং।

সংবাদসূত্র: আলজাজিরা

নোবিপ্রবিতে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক নেতাকে সদস্যসচিব করে জুলাই ড…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
জুলাই রান-২০২৬ নিয়ে ডাকসুর নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ, ক্ষো…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
খেলা চলাকালীন মাঠেই বজ্রাঘাতে ফুটবলারের মৃত্যু
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
ঢাবিতে ৫০ শহীদ পরিবার নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ‘জুলাই নির্ভী…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে পবিপ্রবি ছাত্রদ…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
বৃষ্টিতে বদলে গেল সমীকরণ, বাছাইপর্ব খেলতে হবে আয়ারল্যান্ডকে
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬