যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বিচারহীনতা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে সুষ্ঠু বিচার এবং দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি © টিডিসি ফটো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ড. এরশাদ হালিমের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বিচারহীনতা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে সুষ্ঠু বিচার এবং দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম আগামী ৭ই মে অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত রিপোর্ট জমাদানের নির্দেশ প্রদান করেন।
আজ বৃহস্পতিবার ( ৩০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১ টায় উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ-এর পর রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহসহ রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশে গড়িমসি করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক ( ড এরশাদ হালিম) জামিনে মুক্ত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছেন। এছাড়াও তদন্ত কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা এবং পেনড্রাইভে ভাইরাস বা তথ্য মুছে যাওয়ার মতো ঠুনকো অজুহাতে তদন্ত প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ৩ মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা থাকলেও আজ ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত তা সম্পন্ন হয়নি।
এ সময় ডাকসুর পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে তদন্ত কমিটিগুলো প্রায়ই সময়ক্ষেপণ করে ঘটনা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এরশাদ হালিম ইস্যুতেও তেমনটি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদি প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে পুনরায় বিলম্ব করে, তবে শিক্ষার্থীরাই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবে।"
ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের ভিপি খন্দকার আবু নাঈম জানান, উপাচার্য অধ্যাপক ড এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম আগামী ৭ই মে অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত রিপোর্ট জমাদানের জন্য তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব আইয়ুব আলীকে নির্দেশ প্রদান করেন।
ফজলুল হক হল সংসদের ভিপি বলেন, ‘এরশাদ হালিম দীর্ঘদিন ধরে যে বিকৃত রুচির পরিচয় দিয়ে আসছেন, তা ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে চরম গর্হিত কাজ। সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তদন্ত কমিটির গড়িমসি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে বলেও শিক্ষার্থীরা জানতে পেরেছে। এই জঘন্য অপরাধের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, কোনো ধরনের তালবাহানা শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না।’
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী অভীক চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, ‘কোর্ট রুম থেকে শুরু করে তদন্ত কমিটির মিটিং চলাকালেও অভিযুক্তের পক্ষ থেকে আমাদের জীবন ধ্বংস করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বারবার তথাকথিত 'অদৃশ্য ভাইরাসের' দোহাই দিয়ে তথ্য মুছে যাওয়ার নাটক সাজিয়ে কি অভিযুক্তকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে?’
উক্ত কর্মসূচিতে রসায়ন বিভাগের একদল শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের ভিপি খন্দকার আবু নাঈম এবং জগন্নাথ হল সংসদের জিএস সুদীপ্ত প্রামাণিক।