জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের লোগো © টিডিসি ফটো
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়,বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বাধীন জ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠান। এখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রশাসনিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা, সংযম ও দায়িত্বশীলতা আরও বেশি প্রত্যাশিত। বিশেষ করে উপ-উপাচার্যের মতো উচ্চ প্রশাসনিক পদে থেকে প্রদত্ত বক্তব্য কেবল ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে বিবেচিত হয় না, তা প্রতিষ্ঠানের নৈতিক অবস্থান হিসেবেও প্রতিফলিত হয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও নিরপেক্ষতা রক্ষায় প্রশাসনিক ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করা উচিত।
এছাড়াও আরো উল্লেখ করে বলা হয়, জাকসু নির্বাচন নিয়ে অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খানের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে একটি অগ্রহণযোগ্য প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। কিন্তু আমাদের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) মহোদয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাসে জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কিত ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো মন্তব্য এবং নির্বাচন নিয়ে জাকসুর জিএসসহ কয়েকজন জাকসু নেতার ধারাবাহিক অপপ্রচারের বিষয়ে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো অবস্থান আমরা প্রত্যক্ষ করিনি।
এই দ্বৈত মানদণ্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে দাবি করা হয়।
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম আশা ব্যক্ত করে বলে, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) তাঁর সংশ্লিষ্ট ফেসবুক বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করবেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করবেন। এছাড়াও পাশাপাশি অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খানের বিরুদ্ধে জারি করা বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানায় তারা।
এছাড়াও বিবৃতিতে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, এধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়।
শিক্ষক ফোরাম সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলে, গণতান্ত্রিক পরিবেশে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব।
এর আগে উপ-উপাচার্য(শিক্ষা)অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান সামাজিক যোগাযোগম্যাধম ফেসবুকে এক পোষ্ট বলেন, "একজন সাধারণ ভোটার হিসেবে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্চতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনের ফলাফল গ্রহনযোগ্য করতে প্রধান বিচারপতির তত্তাবধানে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে সকল দলের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে উন্মুক্তভাবে সংশ্লিষ্ট সকল ডকুমেন্ট যাচাই-বাছাইপূর্বক সকল আসনের প্রদত্ত ভোেট পূন:গননার মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবে নিশ্চিতকরনের পর বিজয়ীদের ফলাফল পূন:প্রকাশ করার দাবী জানাচ্ছি।"