৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স জিহাদের

‘ভালো পজিশন আশা করেছিলাম, কিন্তু একদম ফার্স্ট হব ভাবিনি’

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:১০ PM
 মো. জিহাদুল ইসলাম

মো. জিহাদুল ইসলাম © সংগৃহীত

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় তিনটি পাবলিক বিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছেন মো. জিহাদুল ইসলাম। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডি’ ইউনিটে ৩৭তম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিটে ৪৭তম স্থান অর্জন করেছেন। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় করেছেন বাজিমাত। এই ইউনিটের তৃতীয় শিফটে সমন্বিতভাবে প্রথম হয়েছেন তিনি।

জিহাদুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার সাতারপাড়া গ্রামে। তিনি রামগঞ্জ রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার স্বপ্ন না থাকলেও ভালো একটা পজিশনের নিয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল জিহাদুলের। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, ভালো একটি পজিশন আশা করেছিলাম কারণ আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি। তবে একদম প্রথম হব এটা প্রত্যাশার বাইরে ছিল। যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনেক সময় ভাগ্যেরও ব্যাপার থাকে । আমি শুধু চেয়েছিলাম আমার পছন্দের সাবজেক্টটা যেন নিশ্চিত হয়, কিন্তু সৃষ্টিকর্তা আমাকে তার চেয়েও বেশি দিয়েছেন।’

‎‎জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্‌, এই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। যখন রেজাল্ট শিটের একদম উপরে নিজের রোলটা দেখলাম, মুহূর্তের জন্য শরীরটা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। গত কয়েক মাসের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের সার্থকতা। আমার এই ফলাফলে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছে আমার বাবা-মা। তাদের খুশির কারণ হতে পারাটা আমার পরম পাওয়া।’

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জার্নি কেমন ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জার্নিটা মোটেও সহজ ছিল না। কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ভর্তি পরীক্ষা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে বেসিক বিষয়গুলো শেষ করেছি। আর মূল প্রস্তুতি শুরু হয় এইচএসসি পরীক্ষার পরেই। প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ ঘণ্টা পড়তে হয়েছে। একদিন সর্বোচ্চ ১৫ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট পড়েছি। জাবির প্রশ্ন পদ্ধতি যেহেতু একটু ভিন্ন (বিশেষ করে আইকিউ এবং গণিত), তাই আমাকে আলাদা করে কৌশল সাজাতে হয়েছিল। অনেক নির্ঘুম রাত আর ত্যাগের বিনিময়ে এই জার্নিটা পূর্ণতা পেয়েছে।’

‎প্রস্তুতির সময়ে কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রস্তুতির মাঝামাঝি সময়ে একবার খুব বার্ন আউট ফেস করেছিলাম। মনে হচ্ছিল যা পড়ছি সব ভুলে যাচ্ছি এবং মডেল টেস্ট গুলোতে নম্বর আশানুরূপ আসছিল না। তখন আমি কয়েকদিন পড়াশোনা থেকে একদম বিচ্ছিন্ন ছিলাম এবং নিজের দুর্বল জায়গাগুলো শনাক্ত করে সেগুলোতে বেশি সময় দিয়েছি।’ 

‎কীভাবে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে আমি নিয়মিত মাইন্ড ফ্রেশ রাখতাম।  এবং বড়দের সাথে কথা বলতাম, পরামর্শ নিতাম তখন অনেক কিছু সহজ লাগতো।

এতদূর আসার পেছনে কাদের অবদান সবচেয়ে বেশি জানতে চাইলে জিহাদুল বলেন, প্রথমেই আমার মা-বাবার কথা বলবো। তাদের ধৈর্য এবং মানসিক সমর্থন না থাকলে আমি মাঝপথে ভেঙে পড়তাম। এরপর আমার শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। বিশেষ করে জাবিতে প্রথম হওয়া আমার জন্য এক স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। এই দীর্ঘ এবং কঠিন যাত্রায় 'ফোকাস' মৌচাক ব্রাঞ্চ ছিল ছায়ার মতো। ওখানকার ভাইয়াদের নিখুঁত গাইডলাইন, গোছানো লেকচার শিট আর নিয়মিত মডেল টেস্টগুলোই মূলত আমাকে পরীক্ষার কঠিন প্রশ্নের জন্য তৈরি করেছে। নিজের পরিশ্রম আর ফোকাসের সঠিক দিকনির্দেশনা মিলেই আজকের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। যার বড় কৃতিত্ব আমার পরিবার এবং ফোকাস মৌচাক ব্রাঞ্চের। 

শিক্ষা খাতে সংস্কৃতি ও পরিচয়ের মূল্য স্বীকার জরুরি : শিক্ষা…
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাবির কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের পুনঃনিরীক্ষণের ফল …
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে, করু…
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পে-স্কেলে এমপিও শিক্ষকদের বেতন বাড়বে কি না জানাল অর্থ মন্ত্…
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
হান্নান মাসউদকে ১০ লাখ টাকার সহায়তা দিল সহপাঠীরা
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের আবেদন শুরুর সময় পেছাল
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬