বুটেক্স থেকে আইকিয়ার সুইডেন অফিসে খন্দকার নাফিস

১৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৮ AM
খন্দকার নাফিস

খন্দকার নাফিস © সংগৃহীত

বাংলাদেশের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে ইউরোপের কর্পোরেট জগতে প্রতিষ্ঠা লাভ—খন্দকার নাফিসের ক্যারিয়ারের গল্পটি ঠিক এমনই এক যাত্রা। যেখানে সাহস, কৌতূহল এবং নিরন্তর শেখার আগ্রহ তাকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হোম ফার্নিশিং কোম্পানি আইকিয়া-এর সুইডেন সদর দপ্তরে। নিজ যোগ্যতায় তিনি সেখানে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজেকে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ৩৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী খন্দকার নাফিস ২০১২ সালে ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই তাঁর মধ্যে ছিল শেখার তীব্র আগ্রহ এবং নতুন কিছু জানার কৌতুহল। শিক্ষকদের সহায়তায় সেই কৌতুহল ধীরে ধীরে গড়ে তোলে এক অনুসন্ধিৎসু মানসিকতা, যা পরবর্তী সময়ে তাঁর পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ সময়েই তাঁর কর্মজীবনের সূচনা ঘটে। ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি ডিক্যাথলন তাঁকে প্রোডাকশন লিডার (ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন এন্ড সাপ্লাই চেইন) পদে নিয়োগ দেয়। ক্যারিয়ারের শুরুতেই এমন সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতা। সেখানে কাজ করতে গিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক কর্পোরেট সংস্কৃতি, সাপ্লাই চেইন এবং প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্টের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

২০১৪ সালে নাফিস আইকিয়া–তে কোয়ালিটি ডেভেলপার হিসেবে যোগ দেন। বাংলাদেশে কোম্পানির সাপ্লায়ার বেসের গুণগত মান উন্নয়ন এবং উপকরণ উন্নয়নের কাজের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। ধীরে ধীরে তাঁর দায়িত্ব বাড়তে থাকে এবং নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। পরবর্তীতে তিনি প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১৭ সালে গ্লোবাল প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ার পদে উন্নীত হন। সে সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম তরুণ গ্লোবাল ইঞ্জিনিয়ারদের একজন ছিলেন।

কয়েক বছরের মধ্যেই নাফিসের পেশাগত দক্ষতা আর কাজের ধরণ চাকরির বাজারে বেশ নজর কাড়তে শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে থাকা তাঁর পেশাগত প্রোফাইল দেখে বিশ্বখ্যাত সুইডিশ কোম্পানি আইকিয়া-এর দক্ষিণ এশীয় হেডহান্টিং টিম তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। বেশ কয়েকধাপে প্রোফাইল যাচাই করার পর সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাঁকে নির্বাচন করা হয়।

তখন তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র আড়াই বছর, যা ওই পদে নিয়োগের জন্য তুলনামূলকভাবে অনেক কম ছিল। তবুও তাঁর সক্ষমতা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং শেখার আগ্রহ প্রতিষ্ঠানটির আস্থা অর্জন করে।

২০১৪ সালে নাফিস আইকিয়া–তে কোয়ালিটি ডেভেলপার হিসেবে যোগ দেন। বাংলাদেশে কোম্পানির সাপ্লায়ার বেসের গুণগত মান উন্নয়ন এবং উপকরণ উন্নয়নের কাজের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। ধীরে ধীরে তাঁর দায়িত্ব বাড়তে থাকে এবং নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। পরবর্তীতে তিনি প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১৭ সালে গ্লোবাল প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ার পদে উন্নীত হন। সে সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম তরুণ গ্লোবাল ইঞ্জিনিয়ারদের একজন ছিলেন।

ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি মূলত অ্যাপারেল সেক্টরে কাজ করলেও আইকিয়া–তে যোগ দিয়ে তাঁকে কাজ করতে হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি শিল্পখাতে। কারণ প্রতিষ্ঠানটি মূলত হোম ফার্নিশিং পণ্য নিয়ে কাজ করে, যার ব্যবসায়িক মডেল এবং সাপ্লাই চেইন কাঠামো অ্যাপারেল শিল্পের তুলনায় ভিন্ন। নতুন এই খাতে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য তাঁকে দ্রুত শিখতে হয়েছে নতুন বিষয়, বুঝতে হয়েছে নতুন বাজার এবং কাজ করতে হয়েছে ভিন্ন ধরনের পেশাজীবীদের সঙ্গে।

বিভিন্ন দেশের সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশের বৈচিত্র্যও কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান। সুইডিশ কর্পোরেট সংস্কৃতির পাশাপাশি ইউরোপীয়, এশীয় এবং অন্যান্য দেশের সংস্কৃতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা কর্মপরিবেশ তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে। এই বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ তাঁকে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সমস্যা বিশ্লেষণ করতে এবং সমাধান খুঁজতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশে দীর্ঘ সাত বছর কাজ করার সময় তিনি শুধু দায়িত্ব পালনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; নিজেকে আরও দক্ষ করে তোলার জন্য বিভিন্ন পেশাগত দক্ষতা অর্জনেও মনোযোগ দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান আমেরিকান সোসাইটি ফর কোয়ালিটি থেকে সিক্স সিগমা ব্ল্যাক বেল্ট সার্টিফিকেশন অর্জন করেন, যা তাঁর পেশাগত দক্ষতাকে আরও শক্তিশালী করে।

বাংলাদেশে কাজ করার সময়ই তাঁর পারফরম্যান্স এবং কাজের ধরণ প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল নেতৃত্বের নজরে আসে। প্রায় সাত বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাঁকে সুইডেনে আইকিয়ার সদর দপ্তরে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ ইতিহাসে বাংলাদেশ থেকে খুব অল্পসংখ্যক পেশাজীবীই এই সুযোগ পেয়েছেন, আর তাঁদের মধ্যে বুটেক্সের প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন খন্দকার নাফিস।

সুইডেনে যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল কোম্পানির অভ্যন্তরীণ উদ্যোগের অংশ। ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট, বাসস্থান এবং যাতায়াতসহ সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা প্রতিষ্ঠানটির মোবিলিটি টিমের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে নতুন দেশে গিয়ে কাজ শুরু করার প্রক্রিয়াটি তাঁর জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ হয়ে ওঠে।

সুইডেনে এসে নাফিস আরও বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার সুযোগ পান। বিভিন্ন দেশের সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা—সব মিলিয়ে তাঁর দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতা আরও বিস্তৃত হয়। তবে এই যাত্রা কখনোই একেবারে সহজ ছিল না। 

ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। পরিবারিক পরিস্থিতি থেকে শুরু করে নতুন পরিবেশে কাজের চাপ—সবকিছু মিলিয়ে নানা সময়েই কঠিন মুহূর্ত এসেছে। কিন্তু প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে তিনি শেখার সুযোগ হিসেবে দেখেছেন এবং নিজেকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করেছেন।

এই পুরো যাত্রায় তিনি বিশ্বাস করেছেন একটিই নীতিতে—নিজেকে ক্রমাগত উন্নত করা। নতুন কিছু শেখা, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করা এবং অজানা পথে হাঁটার সাহসই তাঁর ক্যারিয়ারের প্রধান চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে।

খন্দকার নাফিসের মতে, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারের প্রথমেই প্রয়োজন শক্ত টেকনিক্যাল ভিত্তি। টেকনিক্যাল দক্ষতার পাশাপাশি প্র‍য়োজন যোগাযোগ ও দলগত কাজের দক্ষতা।

আরও পড়ুন: অকালেই ঝরে গেল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হাবিবার প্রাণ

তিনি আরও মনে করেন, শিক্ষাজীবন থেকেই বাস্তব শিল্প অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করা উচিত। ইন্টার্নশিপ, ইন্ডাস্ট্রি সেমিনার, ফ্যাব্রিক বা ইয়ার্ন ফেয়ার এবং বিভিন্ন কর্মশালায় অংশগ্রহণ করলে শিল্প সম্পর্কে বাস্তব ধারণা তৈরি হয়। সুযোগ থাকলে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতেও স্বল্পমেয়াদি ইন্টার্নশিপ করার চেষ্টা করা উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

পাশাপাশি ইংরেজির উপর ভালো দখল থাকা এবং সম্ভব হলে আরও একটি বিদেশি ভাষা শেখা আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। নিজের পেশাগত পরিচয় গড়ে তোলার জন্য একটি পরিষ্কার ও পেশাদার সিভি এবং সক্রিয় লিংকডইন প্রোফাইল রাখার পরামর্শও দেন তিনি, যাতে নিজের দক্ষতা ও কাজগুলো বিশ্বব্যাপী পেশাজীবীদের কাছে দৃশ্যমান হয়।

বর্তমান শিক্ষার্থী ও নবীন গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে খন্দকার নাফিসের প্রধান পরামর্শ—নিজেদের মধ্যে একটি শক্তিশালী লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা তৈরি করা। তাঁর মতে, একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে যদি সত্যিকারের আগ্রহ এবং কিছু করার দৃঢ় ইচ্ছা থাকে, তাহলে কঠিন পথও অতিক্রম করা সম্ভব। তিনি মনে করেন, বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে চাইলে প্রথম ধাপ হচ্ছে নিজের দক্ষতা ও জ্ঞানকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা।

বুটেক্সের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ বাড়াতে তিনি অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের গুরুত্বও উল্লেখ করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করা বুটেক্স গ্র্যাজুয়েটদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা এবং পেশাগত সম্পর্ক তৈরি করা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিতে পারে। একই সঙ্গে শিল্পখাতের পরিবর্তন, নতুন প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা সম্পর্কে সচেতন থাকলে ভবিষ্যতে আইকিয়া-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সম্ভাবনাও আরও বিস্তৃত হতে পারে।

অলআউট পাকিস্তান, লিড পেল বাংলাদেশ
  • ১৭ মে ২০২৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক বরখা…
  • ১৭ মে ২০২৬
কালিয়াকৈরে কৃষি ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণ ও পৈশাচিক নির্যাতন…
  • ১৭ মে ২০২৬
জিলহজের প্রথম ১০ দিন নখ-চুল না কাটা কি বাধ্যতামূলক, যা বলছে…
  • ১৭ মে ২০২৬
বিসিবিতে আবারও ‘রাজনৈতিক’ নির্বাচন
  • ১৭ মে ২০২৬
ডুয়েটে হামলায় আহত ১৮ শিক্ষার্থী, আশঙ্কাজনক ১২: চিকিৎসক
  • ১৭ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081