পরপর দুই বিসিএসে ক্যাডার, মাসুদ বললেন— সব কষ্টের হিসাব যেন আল্লাহ এক মুহূর্তে শোধ করে দিলেন

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০১ PM , আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০৫ PM
মো. মাসুদ রানা

মো. মাসুদ রানা © সংগৃহীত

মো. মাসুদ রানা টানা দুই বিসিএসে ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। ৪৬তম ও ৪৮তম—উভয় বিসিএসেই তিনি স্বাস্থ্য ক্যাডার পেয়েছেন। বিসিএস যাত্রায় তার প্রস্তুতির কৌশল, সাফল্য ও সংগ্রামের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ ক্যাডার প্রত্যাশীদের জন্য কিছু পরামর্শ নিয়ে তিনি কথা বলেছেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে। 

টানা দুই বিসিএসে ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। আপনার অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাই
আলহামদুলিল্লাহ। সত্যি বলতে এই অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ৪৬তম ও ৪৮তম—দুটি বিসিএসেই (স্বাস্থ্য) সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া আমার জন্য শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দীর্ঘ একটি যাত্রার স্বীকৃতি। এই পথচলায় ছিল অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা, হতাশা, আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। যখন ফলাফল দেখি, তখন প্রথমেই মনে হয়েছে-সব কষ্টের হিসাব যেন আল্লাহ এক মুহূর্তেই শোধ করে দিলেন। পরিবারের মুখে হাসি আর নিজের ভেতরের এক ধরনের শান্তি—এই দুটোই তখন সবচেয়ে বেশি অনুভব করেছি। এই অর্জন একদিনে আসেনি। এর পেছনে আছে পরিবার, শিক্ষক, বন্ধু এবং অসংখ্য না-দেখা দোয়া।

আপনার শৈশব ও শিক্ষা জীবন সম্পর্কে জানতে চাই
আমার শৈশব কেটেছে একদম সাধারণ পরিবেশে। প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় তেঘরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছিল, তবে তখনো বিসিএস বা বড় কোনো স্বপ্ন খুব পরিষ্কার ছিল না। মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করি পাতিবিলা হাজী শাহজাহান আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে। এরপর এ.বি.সি.ডি কলেজ, যশোর থেকে উচ্চমাধ্যমিক।

শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ, গাজীপুর –এ ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে। মেডিকেলে পড়াশোনা আমাকে শুধু একজন ডাক্তারই নয়, বরং দায়িত্ববোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

আপনার বিসিএস যাত্রা শুরু হয় কীভাবে? কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছেন? কোনো সুখস্মৃতি থাকলে সেটাও জানতে চাই

মেডিকেল জীবন থেকেই বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। দেশের সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি কাজ করার সুযোগ আমাকে টানত। তবে যাত্রাটা সহজ ছিল না। চাকরির অনিশ্চয়তা, পড়াশোনার চাপ - সব মিলিয়ে মানসিক চাপ ছিল প্রচুর। 
তবে সুখস্মৃতিও আছে। বিশেষ করে প্রথমবার প্রিলি ও রিটেন ভালোভাবে পার করার পর যে আত্মবিশ্বাস আসে—ওটা ভাষায় বোঝানো যাবে না। আর সবচেয়ে বড় সুখস্মৃতি হলো—শেষ পর্যন্ত হাল না ছেড়ে লেগে থাকা।

বিসিএস প্রস্তুতিতে আপনি কী ধরনের কৌশল অনুসরণ করেছেন? 
আমি কোনো অলৌকিক কৌশল অনুসরণ করিনি। সিলেবাসভিত্তিক পড়াশোনা, নিয়মিত রিভিশন, আগের বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ, নিজের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোতে বেশি সময় দেওয়া—এগুলোই মূল ছিল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল-নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা এবং অন্যের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় তুলনা না করা।

বিসিএস যাত্রায় যারা নতুন তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
ধৈর্য ধরতে হবে। বিসিএস কোনো শর্টকাটের পরীক্ষা না। শুরুতে সিলেবাস ভালো করে বুঝে নিতে হবে। একসাথে সব পড়ার চেষ্টা না করে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। নিজের রুটিন নিজের বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করতে হবে। নিজেকে যাচাইয়ের জন্য যেকোনো প্লাটফর্মে  নিয়মিত পরীক্ষা দিতে হবে। হতাশ হলেও থেমে যাওয়া যাবে না।

যারা এখনো লড়াইয়ে আছেন, তাদের জন্য বলব—আপনার সময়ও আসবে, যদি আপনি হাল না ছাড়েন। আল্লাহ কখনো কারো পরিশ্রম বৃথা যেতে দেন না।

বিসিএস রিটেন পরীক্ষার প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত?
রিটেনের জন্য শুধু পড়লেই হবে না, লিখে প্র্যাকটিস করতে হবে। উত্তর যেন গোছানো হয়, পয়েন্ট আকারে হয়, সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে প্রাসঙ্গিক ডাটা ও ম্যাপ সংযুক্ত করা এই বিষয়গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পত্রিকা পড়া অভ্যাস করা উচিত। 

আপনার ভাইভা প্রস্তুতি কেমন ছিল?
ভাইভায় আমি আলাদা করে অভিনব কিছু করিনি। নিজের সাবজেক্ট, নিজের জেলা, নিজের পড়াশোনা—এই জায়গাগুলো ভালোভাবে প্রস্তুত রেখেছি। ভাইভার সময় আত্মবিশ্বাসী এবং স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেছি। 

ফেনীতে যুবদল কর্মীর খামার থেকে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার
  • ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের
  • ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সার্ক কৃষি কেন্দ্রে চাকরি, কর্মস্থল ঢাকা, আবেদন শেষ ১৯ ফেব্…
  • ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা বিমানবন্দর ছাড়পত্র দিলেও সৈয়দপুরে নাটক সাজানো হয়েছে: জ…
  • ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
টাকাসহ আটক জেলা জামায়াত আমির, যে ব্যাখ্যা দিল জামায়াত
  • ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিএনপির প্রোগ্রামে যাওয়া চেয়ারম্যানকে নিয়ে মন্তব্য, ইউজিসি …
  • ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
X
APPLY
NOW!