নিজ ক্ষেতের স্কোয়াশ হাতে কৃষক সেলিম © টিডিসি
থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের সবজি স্কোয়াশ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কৃষক সেলিম মিয়া। প্রথমবার চাষেই তিনি যেমন ভালো ফলন পেয়েছেন, তেমনি হয়েছেন আর্থিকভাবে লাভবানও। তার এ সাফল্য দেখে উপজেলার অন্যান্য কৃষকরাও স্কোয়াশ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
বাহুবল উপজেলার ৫ নম্বর লামাতাশি ইউনিয়নের তঘলি গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝিঙ্গা, লাউ, মূলা, টমেটো, বাঁধাকপি ও ফুলকপিসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে আসছেন। চলতি শীত মৌসুমে উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে তিনি স্বল্প পরিসরে স্কোয়াশ চাষ শুরু করেন।
সেলিম মিয়া জানান, উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম তাকে স্কোয়াশ চাষে উৎসাহ দেন এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তার পরামর্শ অনুযায়ী বীজতলায় চারা তৈরি করে পরে জমিতে রোপণ করা হয়। প্রায় দেড় মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। গাছের বৃদ্ধি ও ফলন অনেকটা মিষ্টি কুমড়ার মতোই।
তিনি আরও জানান, প্রায় ১৩ শতক জমিতে স্কোয়াশ চাষ করেছেন। জমি প্রস্তুত ব্যতীত বীজ, সার ও কীটনাশকের জন্য আলাদা কোনো খরচ করতে হয়নি। এসব উপকরণ কৃষি অফিস থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু স্কোয়াশ বিক্রি করেছেন এবং পুরো মৌসুমে ওই জমি থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন।
দ্বিমুড়া কৃষি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম বলেন, ‘পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে আমরা কৃষক সেলিম মিয়াকে সহায়তা করেছি। তিনি স্কোয়াশ চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তার সাফল্য দেখে অন্য কৃষকরাও এই সবজি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, স্কোয়াশ একটি বিদেশি সবজি হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে এ বিষয়ে ধারণা তুলনামূলক কম। তবে যারা ইতিমধ্যে চাষ করেছেন, তারা সবাই সফল হয়েছেন। তাদের দেখাদেখি অনেক কৃষক পরামর্শ নিতে কৃষি অফিসে আসছেন। স্কোয়াশ চাষ লাভজনক হওয়ায় আগামী মৌসুমে ব্যাপক আকারে এই সবজি চাষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি ব্রুকলি, ক্যাপসিকাম ও রেড ক্যাবেজসহ অন্যান্য বিদেশি সবজি চাষেও কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানান।
পুষ্টিগুণের দিক থেকেও স্কোয়াশ অত্যন্ত সমৃদ্ধ বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সাধারণ কুমড়ার মতো ব্যবহার হলেও স্কোয়াশে পুষ্টিগুণ বেশি। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ই, বি-৬, নায়াসিন, থায়ামিন, ফলিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান। ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ ও ক্যানসার রোগীদের জন্য এই সবজি উপকারী। নিয়মিত স্কোয়াশ খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়।