মাসুম বিল্লাহ © টিডিসি
দারিদ্র্য ও সংগ্রামের মধ্যেও হার মানেননি মাসুম বিল্লাহ। বাবার সঙ্গে ইটভাটায় কাজ করে নিজের পড়াশোনার খরচ জোগালেও স্বপ্ন ছাড়েননি একমুহূর্তের জন্য। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, আত্মবিশ্বাস আর অধ্যবসায়ের জোরে তিনি দেশের সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়ে প্রমাণ করেছেন, পরিশ্রম আর দৃঢ় মনোবল থাকলে কোনো বাধাই অজেয় নয়।
মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না, বাবার সঙ্গে ইটভাটায় কাজে যোগ দিই। যদিও মা কখনোই চাননি আমি এই কষ্টটা করি। আমার ইচ্ছে ছিল, নিজের উপার্জনে পড়ালেখা করার। এ বিনিময়ে কষ্ট করতেও দ্বিধা ছিল না। কলেজ শেষ করে কোচিংয়ে ভর্তি হতে পারিনি। আত্মবিশ্বাস আর দৃঢ় মনোবল নিয়ে ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় বসি। পরবর্তী সময়ে রাবি, ইবি, কুবি, ববি, পাবিপ্রবি, বেরোবি, জাককানইবিতে ভর্তির সুযোগ পাই। শেষ পর্যায়ে ববির বাংলা বিভাগ বেছে নিই।’
তিনি বলেন, “ছোটবেলায় আমি পড়তে চাইতাম না। দাদা-দাদি আমাকে জোর করে পড়তে বসাতেন। তারা খুব বেশি পড়াশোনা জানতেন না, কিন্তু ‘অ’ থেকে এইটুকু জানাই ছিল আমার জীবনের প্রথম আলো। আমি পড়তে না চাইলে দাদি পেছন থেকে খাবার ফেলে বলতেন, ‘পড়লে আল্লাহ খাবার দেন।’ আজ মনে হয়, সেখান থেকেই আমার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহের বীজ রোপিত হয়েছিল। অপর দিকে মা-বাবার চেষ্টাও কম ছিল না।”
মাসুম বিল্লাহ আরও বলেন, ‘মা-বাবার সম্পর্ক ভালো না থাকাটা আমার পড়াশোনায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল। পারিবারিক অশান্তির কারণে জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় ভালো করতে পারিনি। তবু মনের ভেতরের জেদ আর মায়ের দোয়া আমাকে থামতে দেয়নি। এসএসসি পরীক্ষায় স্কুলে টপার হওয়ার পর মনে হলো, আমাকে আরও অনেক দূর যেতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ করে কী করব, তা ওপরওয়ালার হাতে ছেড়ে দিয়েছি। কারণ, এত দূর যিনি এনেছেন, তিনি বাকি পথটুকু দেখবেন। আমি বিশ্বাস করি, অধ্যবসায়ই সাফল্যের চাবিকাঠি।’