কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ © সংগৃহীত
১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত, প্রায় ২৩ একর জায়গাজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ আজও বারবার তার সক্ষমতার জানান দিয়ে আসছে। দেশের অন্যতম দারিদ্র্যপীড়িত ও বাজেট বৈষম্যের শিকার একটি জেলা হয়েও শিক্ষা ক্ষেত্রে কুড়িগ্রাম যে পিছিয়ে নেই, তা নতুন করে প্রমাণ করছে এই প্রতিষ্ঠান।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধনের ১৭তম ও ১৮তম নিবন্ধনে প্রভাষক পর্যায়ের পরীক্ষায় সারা বাংলাদেশে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান অর্জনের গৌরব অর্জন করেছে এই কলেজের শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন ও আবাসিক সুবিধার অভাব সত্ত্বেও বারবার নিজেদের অবস্থান শক্ত হাতে প্রতিষ্ঠা করে চলেছে তারা।
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলমান ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষেও বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ। শুধু তাই নয়, চলতি শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০’র বেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছে, যা জেলার ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক সাফল্য কুড়িগ্রাম জেলাকে শিক্ষা মানচিত্রে একটি সম্মানজনক সীমায় নিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে এখান থেকে আরও বেশি মেধাবী শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আতাউল হক খান চৌধুরী বলেন, ‘কুড়িগ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক অন্য রকম স্পৃহা আমরা খুঁজে পেয়েছি। সেই স্পৃহাকে সামনে রেখে আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আমাদের কাজ করে গেছি মাত্র। আমরা আশাবাদী, সামনের দিনগুলোতে আরও ভালো ফলাফল জেলাবাসীকে উপহার দিতে পারব।’
সব সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ এই সাফল্য প্রমাণ করে—স্বপ্ন দেখার সাহস আর অদম্য চেষ্টা থাকলে মফস্বল থেকেও তৈরি হয় জাতীয় গৌরব।