ঢাবিতে ভর্তি বন্ধের প্রতিবাদ
বিক্ষোভে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি © সংগৃহীত
এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কিছু বিভাগে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারতেন না। এর প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মসূচিও পালন করতেন তারা। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদিকে এমন একটি কর্মসূচিতে (বিক্ষোভ) নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) হাদির এমন একটি ছবি ফেসবুকে শেয়ার দিয়েছেন তার বোন মাসুমা হাদি। এরপর সেটি আলোচনায় আসে।
জানা গেছে, ভাইরাল ছবিটি ২০০৮ কিংবা ২০০৯ সালের। সেই সময় মাধ্যমিক (দাখিল) ও উচ্চ মাধ্যমিকে (আলিম) ২০০ নম্বর করে বাংলা ও ইংরেজি না পড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সারির বেশ কয়েকটি বিষয় পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতেন মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সমালোচনার মুখে ২০১৩ সালে সর্বপ্রথম দাখিল ও আলিমে ২০০ নম্বরের বাংলা এবং ইংরেজি মাদ্রাসা সিলেবাসভুক্ত করে মাদ্রাসা বোর্ড। এরপর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিষয়ে পড়ার সুযোগ পান মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।
২০০৮-২০০৯ সালের দিকে হাদি ঝালকাঠির বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসার আলিম পড়ুয়া শিক্ষার্থী ছিলেন। সেখান থেকে ২০০৯ সালে আলিম ও ২০০৭ সালে দাখিল সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে অনার্স-মাস্টাস শেষ করেন হাদি
হাদির বোন মাসুমা হাদি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবিটি যুক্ত করে লিখেন, ‘‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যখন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু বিভাগ যেমন-বাংলা, ইংরেজি ও আইন বিষয়ে ভর্তি নিষিদ্ধ করার নীলনকশায় লিপ্ত হয়, তখন আমার ভাই (ওসমান বিন হাদি) ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসায় আলিম শ্রেণিতে (ইন্টার) অধ্যয়নরত অবস্থায় সহপাঠীদের নিয়ে উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পাশাপাশি তিনি ডিসি অফিসে স্মারকলিপি প্রদান করেন।’’
ছবিতে দেখা যায়, হাদির নেতৃত্বে মাদ্রাসার একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন। এসময় হাদিকে হাত উঁচিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায়। বাংলাদেশ জমিয়তে তোলাবায়ের ব্যানারে লেখা ছিল ‘ঢাবির বিভিন্ন বিভাগের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভর্তি বন্ধের প্রতিবাদে’ বিক্ষোভ সমাবেশ। স্থান ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসা ক্যাম্পাস।