ট্যাব, ফ্রি বই বা খাবার শিক্ষার সহায়ক অবকাঠামো, কিন্তু এগুলো মানসম্পন্ন শিক্ষকের বিকল্প নয়

১৪ জুন ২০২৬, ১০:০৭ AM , আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:১০ AM
অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন

অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন © সংগৃহীত

ট্যাব, স্মার্ট বোর্ড, ফ্রি বই বা খাবার—এসবকে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় বলা যায় না; এগুলো সহায়ক অবকাঠামো। কিন্তু এগুলো কখনোই মানসম্পন্ন শিক্ষকের বিকল্প হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন। রবিবার (১৪ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।

পোস্টে তিনি লেখেন, আজকের বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো: শিক্ষায় যে বরাদ্দ বাড়ালো তার আসল বিনিয়োগ কোথায় হবে? সেটা কি ফ্রি ট্যাব, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, স্মার্ট বোর্ড, ফ্রি বই, ফ্রি মিড-ডে মিল ইত্যাদি খাতে? নিশ্চয়ই এইসব শিক্ষার সহায়ক উপাদান; কিন্তু এগুলোর কোনোটাই আসল সমস্যার মূল স্পর্শ করে না। যেই শিক্ষা ব্যবস্থায় শ্রেণিকক্ষে দাঁড়ানো মানুষটি অর্থাৎ শিক্ষক যদি যথেষ্ট দক্ষ, যথেষ্ট সম্মানিত ও যথেষ্ট অনুপ্রাণিত না হন তাহলে সেই শিক্ষা ব্যবস্থায় শ্রেণিকক্ষ যতই আধুনিক টেকনোলজি সমৃদ্ধ হউক না কেন, যতই ফ্রি বই, মিড-ডে মিল ইত্যাদি থাকুক ষোল আনাই মিছে। 

এ অধ্যাপক লেখেন, সক্রেটিসের ছাত্র ছিলেন প্লেটো, প্লেটোর ছাত্র ছিল অ্যারিস্টট্ল। তখন শ্রেণীকক্ষই ছিল না। শিক্ষকের সাথে গাছতলায়, শিক্ষকের বাড়িতে, রাস্তাঘাটেই হতো পড়াশুনা। অথচ তারাই সভ্যতা তৈরির নায়ক ছিলেন। শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হলো শিক্ষক। যদি পেশাটি অনাকর্ষণীয়, অস্বচ্ছ ও কম বেতনের হয়, তবে মেধাবী তরুণরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে চাইবে কেন? বরং তারা অন্য পেশায় চলে যাবে, আর স্কুল-কলেজে থেকে যাবে অনুপ্রেরণাহীন, কম দক্ষ একদল মানুষ। 

তিনি আরো লেখেন, অথচ তাদের হাতেই থাকবে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তাই আসল বিনিয়োগ হওয়া উচিত ভালো শিক্ষক গড়ে তোলায়: উচ্চ বেতন, সম্মানজনক সামাজিক অবস্থান, কঠোর ও মানসম্মত নিয়োগব্যবস্থা, ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত বিকাশের বাস্তব সুযোগ তৈরি করা। 

অধ্যাপক আরো লেখেন, প্রথমে শিক্ষককে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে হবে, তারপর প্রযুক্তি ও অন্যান্য সুবিধা তার হাতের কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে। নইলে, ঝকঝকে ক্লাসরুমের ভেতরে দাঁড়িয়েও আমরা খালি খোলসের মতো এক শিক্ষাব্যবস্থা চালিয়ে যাব।

কামরুল হাসান মামুন লেখেন, কিন্তু যতদিন জনগণ এর জন্য চাপ না দিবে ততদিন কোন পরিবর্তন হবে না। কারণ এই দেশের সরকারগুলো কখনোই স্বপ্রণোদিত হয়ে কোন ভালো কাজ করে না। স্বপ্রণোদিত হয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ট্যাব-পোশাক-ব্যাগ প্রদান, মিড-ডে মিল এবং বৃত্তি প্রদান অদূরদর্শী কাজ যার মাধ্যমে মন্ত্রী আমলারা ধান্দাবাজি করে দুর্নীতি করতে পারবে সেগুলো করবে। কিন্তু আসল কাজ হলো উন্নত শিক্ষক নিয়োগের জন্য শিক্ষকতা পেশাকে আকর্ষণীয় করার কাজ করবে না।

বেপরোয়া ছাত্রশিবিরকে মুখে ও হাতে লাগাম লাগানোর পরামর্শ দিচ্…
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছাত্রদলকে ‘কুত্তার মতো পিটিয়ে’ রাজশাহী ছাড়া করার হুমকি মহান…
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘কুকুরের মত হিংস্রদের কীভাবে শিক্ষা দিতে হয়, ছাত্রদল বারবার…
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্র…
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চবির শাটলট্রেন সংস্কারে ১৫ উদ্যোগ নিল বাংলাদেশ রেলওয়ে
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মে ২০২৭ থেকেই চট্টগ্রামে স্থায়ী ক্যাম্পাসে ক্লাস নেবে মেরিট…
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬