ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নাপা-এন্টাসিডের জন্যও শিক্ষার্থীদের যেতে হচ্ছে এক কিলোমিটার দূরে

১৮ জুলাই ২০২৩, ০৭:৩৫ PM , আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৩০ PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা © ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলোতে কয়েকশ খাবারের কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান থাকলেও নেই কোন ফার্মেসির দোকান। ফলে আবাসিক হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সামান্য জ্বর-সর্দির জন্য নাপা-প্যারাসিটামল কিংবা গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ এন্টাসিডের জন্য বাধ্য হয়ে অসুস্থ শরীর নিয়ে ছুটতে হয় এক কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে নীলক্ষেত, পলাশী কিংবা শাহবাগে। ফলে প্রতিনিয়তই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজারো আবাসিক শিক্ষার্থী।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ পুরোদশে বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। তাছাড়া ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথেই দেশে বেড়ে যায় জ্বর, ঠান্ডা জনিত রোগ-বালাইয়ের প্রাদুর্ভাব। আবার সময়-অসময়ে প্রাদুর্ভাব বাড়ে মশা বা পানি বাহিত ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড সহ বিভিন্ন রোগ। প্রাথমিক লক্ষ্মণ হিসেবে জ্বর আসলে সবাই দৌড়াতে থাকেন নাপা-প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধের খোঁজে। শুধু জ্বর কিংবা ঠান্ডাজনিত রোগ নয়, মাঝেমধ্যেই যে-কেউ কোনো রোগে আক্রান্ত হলেই ঔষধের খোঁজে ছুটতে থাকে চারদিকে। কিন্তু প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নেই কোন ফার্মেসি। তাই বাধ্য হয়ে অসুস্থ শরীর নিয়েই সবাইকে ছুটতে হচ্ছে কয়েক কিলোমিটার দূরের ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার, নীলক্ষেত, পলাশী মার্কেট, শাহবাগ বা অন্য কোথাও। ফলে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

আমরা ক্যাম্পাসে দোকান কমানোর চিন্তা করছি, এখানে নতুন দোকান খুলে সেটাকে আবার মুদি দোকানে পরিণত করার ইচ্ছে আমাদের নেই। তাছাড়া ঔষধ সংরক্ষণ ও এর মান বজায় রাখা যথেষ্ট ঝামেলার বিষয়-ভিসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৮টি হলের কোন হলেই নেই কোন ফার্মেসি। এরমধ্যে মেয়েদের কয়েকটি হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন পাওয়া গেলেও ছেলেদের ১৩টি হলে সেটাও পাওয়া মুসকিল। মাঝেমধ্যে সাধারণ প্যারাসিটামল বা নাপা ট্যাবলেটও পাওয়া যায় না হলের দোকানগুলোতে। ক্যাম্পাসের ভেতরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাবে একটি ফার্মেসি থাকলেও সেটাও যথেষ্ট দূরবর্তী হলের শিক্ষার্থীদের জন্য। তাছাড়া কারণে-অকারণে সেই ফার্মেসিটি বন্ধ থাকায় ছুটতে হয় দূরবর্তী ফার্মেসির সন্ধানে। 

মেয়েদের হলগুলোতেও মাঝেমধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় সাধারণ ঔষধগুলোও পাওয়া না যাওয়ায় রাত দিন উপেক্ষা করেই ছুটতে হয়ে নীলক্ষেত কিংবা কার্জন এলাকায়। রাত ১০টায় মেয়েদের হলের গেইট বন্ধ হবার পরে কারও সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ঔষধ পাওয়ার অবস্থাও নেই। ফলে সুফিয়া কামাল হল, বঙ্গমাতা কিংবা কুয়েত মৈত্রী হলের বাইরে স্বল্প দূরত্বে ফার্মেসি থাকলেও রাত ১০টার পর বের হতে না পারায় থাকা না থাকা একই ব্যাপার হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য। রোকেয়া ও শামছুন নাহার হলের শিক্ষার্থীদের তখন রিক্সা দিয়ে ঔষধের খোঁজে যেতে হয় নীলক্ষেত বা ঢাবি মেডিকেল সেন্টারে। 

অসুস্থ কারো জন্য ঢাকা মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিলেক বা অন্যান্য ফার্মেসিগুলো যথেষ্ট দূরবর্তী। সেক্ষেত্রে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের তত্ত্বাবধানে ক্যাম্পাসে বা হলগুলোতে ফার্মেসি স্থাপন করা যায় সেটা সকলের জন্য উপকারি হবে- প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বাছির

আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টার কিংবা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রায় সকল হল থেকেই যথেষ্ট দূরে থাকায় সেখানে স্ব-শরীরে গিয়ে সেবা নিয়ে যথেষ্ট অনীহা দেখা যায় শিক্ষার্থীদের মাঝে। তবে এর মাঝে আশার বাণী নিয়ে প্রতিটি হল গেটে জরুরি ঔষধ পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত 'প্রয়োজনে আমরা'। মাত্র ২০ টাকার ডেলিভারি চার্জে তারা অর্ডারের অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই হলের গেটে ঔষধ পৌঁছে দিচ্ছেন। কিন্তু অনলাইনভিত্তিক এই জরুরি ঔষধ সেবার কথাও জানেন না অধিকাংশ শিক্ষার্থীই।

জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থী অর্ণব আশরাফ বলেন, হলের চারদিকে শুধু খাবারের দোকান। নেই কোন ফার্মেসী, নেই কোন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন কোন দোকান। প্রশাসন বা অন্য কেউ কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না এ ব্যাপারে। আমি এত অসুস্থ তবুও আমাকে ঢাকা মেডিকেল থেকে ঔষধ নিয়ে আসতে হলো। এমনই সবাইকে যেকোনো রোগে আক্রান্ত হলেই ভুগতে হয় ঔষধের অভাবে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টার

বিশ্ববিদ্যালয়ের শামছুন নাহার হলের শিক্ষার্থী নূরে জান্নাত সুজানা বলেন, প্রচন্ড কাশি বা গলাব্যথা নিয়ে যখন হল স্টোরে গিয়ে শুনি প্রয়োজনীয় ওষুধটা নেই, তখন বাধ্য হয়ে ঢাকা মেডিকেল বা নীলক্ষেত যেতে হয়। ক্যাম্পাসের মধ্যে বা হলগুলোতে একটা করে ফার্মেসি থাকার প্রয়োজনীয়তা শুধু একজন ভুক্তভোগীই বুঝতে পারবে। বহু আগে থেকেই তাই ক্যাম্পাসের আবাসিক শিক্ষার্থীদের নীরব দাবি টিএসসি/কলাভবন অথবা সম্ভব হলে প্রতিটি হলে একটি করে ফার্মেসি স্থাপন করা কিন্তু সেটা কখনো বাস্তবায়িত হয়নি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও বিজয় একাত্তর হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির বলেন, প্রথমত আমাদের প্রতি হলেই ‌‘সিক বয়’ রয়েছেন যাদের বললেই তারা ঔষধ নিয়ে আসেন। যদিও অধিকাংশই এ বিষয়ে অবগত নয়। দ্বিতীয়ত বিষয়টি হলো, বর্তমানে ভেজালের ছড়াছড়িতে ফার্মেসি দেওয়া হলে তদারকির অভাবে সেখানে ভেজার ঔষধ কিংবা অন্যান্য অবৈধ কাজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যেটা ভাববার বিষয়। 

“তবে আমি বিশ্বাস করি, অসুস্থ কারো জন্য ঢাকা মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিলেক বা অন্যান্য ফার্মেসিগুলো যথেষ্ট দূরবর্তী। সেক্ষেত্রে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের তত্ত্বাবধানে ক্যাম্পাসে বা হলগুলোতে ফার্মেসি স্থাপন করা যায় সেটা সকলের জন্য উপকারি হবে।”

ঢামেক হাসপাতাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ভাবনা নেই। ঢাকা মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলসহ নীলক্ষেত, শাহবাগ শিক্ষার্থীদের হাতের নাগালেই। তারা চাইলেই সেখান থেকে ঔষধ কিনতে পারছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে দোকান কমানোর চিন্তা করছি, এখানে নতুন দোকান খুলে সেটাকে আবার মুদি দোকানে পরিণত করার ইচ্ছে আমাদের নেই। তাছাড়া ঔষধ সংরক্ষণ ও এর মান বজায় রাখা যথেষ্ট ঝামেলার বিষয়। সেক্ষেত্রে ক্যাম্পাসের বাইরে যারা এসব বজায় রেখে ফার্মেসি দিয়েছে সেখান থেকেই শিক্ষার্থীরা ঔষধ কিনতে পারবে বলে আমি মনে করি।

মা হতে যুক্তরাষ্ট্রে বুবলী
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
দুই সপ্তাহ পরও দেওয়া হয়নি ‘ধর্ষণকাণ্ডের’ মেডিকেল রিপোর্ট, ন…
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
পূবালী ব্যাংকের লকারে রাখা গ্রাহকের ২শ ভরি স্বর্ণ নেই
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
বাগেরহাটে পূবালী ব্যাংকের লকার থেকে ২০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উ…
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য থেকে ২০০০০ নাগরিককে ফিরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
ইবি শিক্ষিকার শরীরে ২০ এর অধিক আঘাতের চিহ্ন, কর্মচারীর এ কে…
  • ০৫ মার্চ ২০২৬