প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে অথবা মস্তিষ্কের রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হতে পারে। এতে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সময়মতো চিকিৎসা না করালে স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ে। তবে ৪০ বছর পার হলেই যে স্ট্রোকের আশঙ্কা তৈরি হবে, তা নয়। বরং এই বয়স থেকেই নিয়মিত কিছু ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুললে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত হাঁটা, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম ও যোগাসন—তিন ধরনের শারীরিক অনুশীলনই গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনোটিকে এককভাবে সেরা বলা যায় না। বরং এই তিন ধরনের ব্যায়ামের সমন্বয়ে একটি নিয়মিত রুটিন গড়ে তোলা বেশি কার্যকর।
স্ট্রোকের ঘটনা ভারতে তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এ সমস্যা উদ্বেগজনক। বয়স্ক ভারতীয়দের ক্ষেত্রে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা এই ঝুঁকি দ্বিগুণ করে দিতে পারে। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাপনের বিষয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর জন্য সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর অভ্যাসগুলোর একটি হলো দ্রুত হাঁটা। এ জন্য জিমে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, দামি সরঞ্জামও লাগে না। সপ্তাহে পাঁচ দিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
নিয়মিত দ্রুত হাঁটলে রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হয়। তবে যারা দীর্ঘদিন শারীরিক ব্যায়াম করেননি, তাদের শুরুতেই ৩০ মিনিট হাঁটার চেষ্টা করা উচিত নয়। অল্প সময় দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে হাঁটার সময় ও গতি বাড়ানো ভালো।
শুধু হাঁটলে শরীরের সব পেশির স্বাস্থ্য বজায় রাখা সম্ভব নয়। এ কারণে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। এ জন্য ভারী ওজন তোলার প্রয়োজন নেই। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী হালকা ওজন, রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড কিংবা শরীরের নিজের ওজন ব্যবহার করেও এ ধরনের ব্যায়াম করা যায়।
বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে রজোনিবৃত্তির পর পেশি ও হাড়ের ক্ষয় দ্রুত বাড়তে পারে। তাই এ সময় শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। পেশির স্বাস্থ্য ভালো থাকলে শরীরের ওজন ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সুবিধা হয়। আর এই দুটি বিষয়ই স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
এ ছাড়া যোগাসন শরীরের নমনীয়তা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতেও ভূমিকা রাখে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত যোগাসন করলে রক্তচাপ সামান্য কমতে পারে। তবে যোগাসনকে হাঁটার বিকল্প হিসেবে দেখার পরামর্শ দেন না চিকিৎসকেরা। বরং হাঁটার পাশাপাশি যোগাসন করলে শারীরিক অনুশীলনের রুটিনে আরও ভারসাম্য আসে। সকালে অথবা ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিছুক্ষণ যোগাসন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করা যেতে পারে।
তিন ধরনের ব্যায়ামের মধ্যে কোনো একটিকে আলাদা করে সেরা বলা যায় না। বরং সপ্তাহে পাঁচ দিন হাঁটা, দুই দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম এবং প্রতিদিন সকালে ও রাতে যোগাসন করার অভ্যাস গড়ে তুললে তা বেশি কার্যকর হতে পারে।
তবে শুধু শারীরিক ব্যায়াম করলেই স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে না। এর পাশাপাশি রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা, খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো, ধূমপান বন্ধ করা এবং অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের চিকিৎসা করানোর দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।