সর্বক্ষেত্রে বাড়ছে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই’র ব্যবহার © টিডিসি সম্পাদিত
সর্বক্ষেত্রে বাড়ছে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই’র ব্যবহার। লেখা-লিখি, তথ্য যাচাই, ভিডিও এডিটিং, গবেষণা সবকিছুতেই দিন দিন বাড়ছে মানুষের নির্ভরতা। এমনকি চাকরির বাজারেও বাড়ছে ‘এআই’ আতঙ্ক। দেশে দেশে আইনি কাজে বাড়ছে এআই ব্যবহার। ফলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, ভবিষত্যে মানুষের বিচারও এআই করবে কি?
২০১৯-এ ইউরোপের এস্টোনিয়ায় বছরের পর বছর জমতে থাকা মামলার চাপ কমাতে বিশেষ রোবটকে বিচারকের আসনে বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে দেশটির আইন বিভাগ প্রস্তাবটি খারিজ করে দেয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বিচার ব্যবস্থায় গত কয়েক বছর ধরেই কাজে লাগানো হচ্ছে কৃত্রিম মেধাকে। পুরনো মামলার তথ্য, নথি সংগ্রহের কাজেই তা ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বহুজাতিক সংস্থার এআই বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, আইনি কাজের ক্ষেত্রে এআই-এর প্রয়োগ সীমিত। কোনও মামলায় জমা হওয়া নথির তথ্য যাচাই, তার অনুবাদ বা মমার্থ উদ্ধার করে দেওয়া পর্যন্তই কাজ করতে পারে কৃত্রিম মেধা। কিন্তু মামলার শুনানি চলাকালীন নীতি নির্ধারণ করা বা বাদী-বিবাদী পক্ষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, জবানবন্দি বিচার করার মতো যোগ্যতা অর্জন করা হয়তো কৃত্রিম মেধার পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ, সেখানে মিলে থাকে মানবিক যুক্তি পরম্পরা ও সূক্ষ্ম সংবেদনশীলতা। তাই, বিচার ব্যবস্থা যান্ত্রিক হয়ে গেলে ত্রুটির আশঙ্কা থাকবে। এমন কাজের ক্ষেত্রে মানুষের মেধা এবং দক্ষতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়াই শ্রেয় বলেই মনে করেন ওই বিশেষজ্ঞ।
ভারতের আলিপুর আদালতের আইনজীবী প্রশান্ত মজুমদার বলেন, এখন প্রযুক্তির উন্নতির কারণে অপরাধের ধরনও বদলেছে। তাই ‘সায়েন্টিফিক এভিডেন্স’ বা বিজ্ঞানসম্মত প্রামাণ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু তাতে বিচার ব্যবস্থার কর্মপদ্ধতিতে কোনও প্রভাব পড়ছে না এবং পড়বেও না। কারণ ওই সব প্রামাণ্য নথি শেষ পর্যন্ত খতিয়ে দেখবেন বিচারকই। তিনিই রায় ঘোষণা করবেন নিজের যুক্তি ও বিচার বোধ কাজে লাগিয়ে। তার বিকল্প কোনও যন্ত্র হতে পারে না।
সূত্র: আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা