কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর © টিডিসি সম্পাদিত
বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্বেচ্ছায় বদলি কার্যক্রমে শূন্যপদের চাহিদা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষকরা। প্রতিষ্ঠানের নামে সঠিক ই-মেইল ঠিকানা না থাকায় কিংবা ভুল বা ব্যক্তিগত ই-মেইল অধিদপ্তরে জমা দেওয়া থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে পারছেন না। ফলে শূন্যপদের তথ্যও পাঠানো যাচ্ছে না। এ ধরনের জটিলতায় পড়েছেন বহু শিক্ষক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই এ সমস্যার সমাধান পেতে শিক্ষকরা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে আসছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সফটওয়্যারে প্রবেশ ও ই-মেইল সংশোধনের বিষয়ে সমাধান জানার চেষ্টা করছেন তারা। এমন সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষক সোহেল মাহমুদ। প্রতিষ্ঠান প্রধানের দেওয়া ই-মেইল ঠিকানা সংশোধনের বিষয়ে জানতে তিনি অধিদপ্তরে এসেছেন।
সোহেল মাহমুদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠানের নামে তৈরি করা ই-মেইল চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমাদের স্যার অধিদপ্তরে যে ই-মেইল জমা দিয়েছিলেন, সেটি ব্যক্তিগত নামে তৈরি করা। এ কারণে শূন্যপদের চাহিদা দেওয়া যাচ্ছে না। স্যার অসুস্থ থাকায় সমস্যার সমাধানের জন্য আমি অধিদপ্তরে এসেছি।’
অধিদপ্তরের এমপিও শাখা থেকে গতকাল জারি করা এক চিঠিতে বলা হয়েছে, শিক্ষকদের স্বেচ্ছায় বদলি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বেসরকারি এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্যপদের তথ্য এমপিও-টি-টি-এস সফটওয়্যারে (MPO-TTS) এন্ট্রি করতে হবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিইএমআইএসে (TEMIS) দেওয়া নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে সফটওয়্যারে লগইন করতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, প্রথমবার লগইনের সময় প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলে পাঠানো ওটিপির মাধ্যমে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর ই-মেইলের পাসওয়ার্ড আপডেট করে সফটওয়্যারে থাকা প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদের তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় হালনাগাদ করতে হবে। তবে এ তথ্য সংশোধন বা আপডেটের সুযোগ কেবল প্রথমবার লগইনের সময়ই থাকবে। একবার তথ্য হালনাগাদ করা হলে পরে আর কোনো পরিবর্তন করা যাবে না।
শূন্যপদের তথ্য এন্ট্রির জন্য ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছে অধিদপ্তর। সফটওয়্যার ব্যবহারে কোনো সমস্যা হলে অফিস চলাকালীন ০১৪০৩৩১৯৮০৮ নম্বরে হেল্পডেস্কে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তবে ই-মেইল সংক্রান্ত জটিলতায় পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আপাতত নতুন করে ই-মেইল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, ‘বদলি কার্যক্রমের জন্য প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল অ্যাড্রেস তৈরি করে অধিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান ব্যক্তিগত ই-মেইল দিয়েছেন কিংবা ভুল ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করে পাঠিয়েছেন। এখন তারা সমস্যায় পড়েছেন।’
আরও পড়ুন: নবজাতকের ভেন্টিলেটর সংকট, শিশুদের আইসিইউ চালু হলেও মিলছে না পূর্ণাঙ্গ সুফল
তিনি আরও বলেন, ‘সকাল থেকেই একই সমস্যা নিয়ে শিক্ষকরা ফোন করছেন। অনেকে অধিদপ্তরেও আসছেন। তবে ই-মেইল সংশোধনের জন্য নতুন করে সময় দেওয়া আপাতত সম্ভব নয়। এজন্য ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কতজন শিক্ষক এ সমস্যায় পড়েছেন, তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এর আগে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করতে বলেছিল কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। গত ৩০ আগস্টের মধ্যে এসব ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করে অধিদপ্তরকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
অধিদপ্তরের ওই নোটিশে বলা হয়েছিল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের গত ২০ মে-এর চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী বদলি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানা থাকা জরুরি। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করে তা অধিদপ্তরকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক ই-মেইল না দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোই এখন শূন্যপদের তথ্য দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন।