সিলিং ফ্যান © সংগৃহীত
গরমের সময় সিলিং ফ্যান প্রায় প্রতিটি বাড়িরই অন্যতম ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্র। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য অনেকেই ফ্যানের গতি কমিয়ে ব্যবহার করেন। তবে একটি বিষয় প্রায়ই নজর এড়িয়ে যায় ফ্যানের পাখায় জমে থাকা ধুলা। তবে, এই ধুলা ফ্যানের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ খরচও বাড়াতে পারে।
সময়ের সঙ্গে জানালা ও দরজা দিয়ে আসা ধুলা ফ্যানের পাখায় জমতে থাকে। বিশেষ করে পাখার প্রান্তে ধুলার স্তর পুরু হয়ে গেলে ফ্যানের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং বাতাস কাটার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে আগের মতো বাতাস দিতে মোটরকে তুলনামূলক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এর ফলে বিদ্যুৎ খরচ কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।
অনেক সময় দেখা যায়, ফ্যান পূর্ণ গতিতে চললেও আগের মতো বাতাস পাওয়া যায় না। অনেকেই তখন মোটরের ত্রুটি মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে পাখায় জমে থাকা ধুলার স্তর বাতাসের প্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রে শুধু ফ্যান ভালোভাবে পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
পাখায় ধুলা জমে থাকলে মোটরের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে মোটরের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং এর আয়ুও হ্রাস পেতে পারে। তাই নিয়মিত ফ্যান পরিষ্কার রাখা শুধু ভালো বাতাস পাওয়ার জন্য নয়, যন্ত্রটির দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
আরেকটি সমস্যা হলো ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। ফ্যানের একদিকে বেশি ধুলা জমলে চলার সময় সেটি কাঁপতে বা দুলতে পারে। দীর্ঘদিন এমন অবস্থায় ব্যবহার করলে মোটর ও মাউন্টিং সিস্টেমের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের যান্ত্রিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
আরও পড়ুন : আকিজ গ্রুপে চাকরির সুযোগ, আছে প্রভিডেন্ট ফান্ড
ফ্যান থেকে অস্বাভাবিক শব্দ আসা, অতিরিক্ত কাঁপা বা চলতে চলতে বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণকে অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক সময় স্ক্রু ঢিলে হয়ে যাওয়া বা ফিটিং দুর্বল হওয়ার কারণেও এমন সমস্যা দেখা দেয়, যা নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নির্দিষ্ট সময় পরপর ফ্যানের পাখা পরিষ্কার করা এবং এর বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করা উচিত। এতে ফ্যানের বাতাস দেওয়ার ক্ষমতা বজায় থাকে, বিদ্যুৎ অপচয়ের সম্ভাবনা কমে এবং মোটরের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়ে না। পরিষ্কার করার পরও সমস্যা থাকলে অবশ্যই দক্ষ টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে ফ্যান পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত।