বিভিন্ন ধরনের গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে শিশু-কিশোরেরা © সংগৃহীত
বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরেরা অনলাইন গেমে এতো বেশি ঝুঁকে পড়েছে, তা কল্পনারও বাইরে। অনলাইন গেম এখন শিশু-কিশোরদের বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। স্মার্টফোন, ট্যাব বা কম্পিউটারে জনপ্রিয় বিভিন্ন গেমে যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রজন্ম। তবে বিনোদনের এ জগতে নীরবে বিস্তার ঘটছে সাইবার প্রতারণারও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গেমের আড়ালে নানা কৌশলে শিশুদের টার্গেট করছে প্রতারক চক্র।
কীভাবে ঘটছে প্রতারণা?
বিশ্লেষকদের মতে, অনলাইন গেমকে কেন্দ্র করে কয়েক ধরনের প্রতারণা বেশি দেখা যাচ্ছে-
ফ্রি ডায়মন্ডের প্রলোভন: জনপ্রিয় গেমে বিনামূল্যে রিওয়ার্ড দেওয়ার কথা বলে ভুয়া লিংকে ক্লিক করানো হয়। এতে ব্যক্তিগত তথ্য বা ব্যাংকিং তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়।
ফেক আইডি ও চ্যাটিং ফাঁদ: গেমের ভেতরের চ্যাট অপশন ব্যবহার করে অচেনা ব্যক্তি বন্ধুত্ব গড়ে তোলে এবং পরে ব্ল্যাকমেইল বা অর্থ দাবি করে।
ফিশিং লিংক: গেম আপডেট বা টুর্নামেন্টের নামে ভুয়া ওয়েবসাইটে নিয়ে গিয়ে লগইন তথ্য চুরি করা হয়।
ইন-অ্যাপ পারচেজ প্রতারণা: অভিভাবকের অজান্তে কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে গেম আইটেম কেনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সহজ-সরল মনোভাব ও প্রযুক্তি সম্পর্কে সীমিত ধারণাকে কাজে লাগাচ্ছে প্রতারকরা। গেমিংয়ের ওপর নজর রাখার উপায়:
১. সন্তান অনলাইনে কী করছে, তা সরাসরি জানতে না চেয়ে বরং কৌশলে জেনে নিন। কী কী খেয়াল করবেন?
২. পেরেন্টাল কন্ট্রোল অ্যাপ: গুগ্ল ফ্যামিলি লিঙ্কের মতো অ্যাপ ব্যবহার করে আপনি অনলাইন গেম খেলার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারেন। কোন ধরনের গেম ফোনে ডাউনলোড হবে, খেলার সময় কত ক্ষণ, তা আপনার হাতেই থাকবে।
৩. গেমের রেটিং চেক করুন: গেমটি ডাউনলোড করার আগে তার রেটিং দেখুন। এতে বোঝা যায়, গেমটি কোন বয়সের জন্য উপযুক্ত।
৪. অ্যাপে নজরদারি: খুদে কোন অ্যাপ ইনস্টল করে গেম খেলছে, তা যাচাই করে নিন। একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য জায়গা থেকেই গেম ডাউনলোড করতে হবে। এখন নানা ভুয়ো ওয়েবসাইট খুলে সেখানে জমকালো বিজ্ঞাপন দিয়ে গেম খেলার জন্য আকর্ষণ করা হচ্ছে কমবয়সিদের।
৫. ওপেন স্পেস গেমিং: সন্তানকে নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে গেম খেলতে না দিয়ে সকলের সামনে খেলার অভ্যাস করান। এতে সে কী দেখছে বা কার সঙ্গে কথা বলছে, তা নজরে থাকবে।
৬. অনলাইন গেমের বন্ধুদের চিনুন: অনেক গেমে ‘লাইভ চ্যাট’ অপশন থাকে। সন্তান অপরিচিত কারও সঙ্গে চ্যাট করছে কিনা, বা ব্যক্তিগত তথ্য দিচ্ছে কিনা, তা নজরে রাখুন।
অভিভাবকদের করণীয় কী?
খোলামেলা যোগাযোগ: সন্তান কী গেম খেলছে, কার সঙ্গে খেলছে এ নিয়ে নিয়মিত কথা বলুন। তাকে নিয়মিত সময় দিন।
প্রাইভেসি সেটিংস চালু রাখা: গেম ও ডিভাইসে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সক্রিয় করুন। যাতে করে সন্তানের মুভমেন্ট বুঝতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেন।
আরও পড়ুন: যেভাবে টানা ১২ দিন ছুটির সুযোগ পেতে পারেন সরকারি চাকরিজীবীরা
অচেনা লিংকে ক্লিক না করার শিক্ষা: ফ্রি রিওয়ার্ড বা উপহারের লোভে কোনো লিংকে না যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করুন।
অনলাইন বন্ধু সম্পর্কে সতর্কতা: বাস্তবে না চেনা কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করতে শেখান।
ব্যাংকিং তথ্য সুরক্ষিত রাখা: কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য সন্তানদের নাগালের বাইরে রাখুন।
সময় নির্ধারণ: নির্দিষ্ট সময়ের বেশি গেম খেলা নিরুৎসাহিত করুন।
কেবল নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং প্রযুক্তি ব্যবহারে দায়িত্বশীল আচরণ শেখানো জরুরি। পরিবারে প্রযুক্তি ব্যবহারের নীতি নির্ধারণ ও সচেতন আলোচনা শিশুদের সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ডিজিটাল যুগে অনলাইন গেম পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে সচেতনতা ও নজরদারির মাধ্যমে সাইবার প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। (আনন্দবাজার)